দু'মাস পর গৃহবন্দি নেতাদের মুক্তি দিল জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন

A+ A- No icon

জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার প্রায় দুই মাস পর জম্মুর গৃহবন্দী সব রাজনীতিককে মুক্তি দিয়েছে ভারতীয় প্রশাসন। কিন্তু কাশ্মির উপত্যকার রাজনীতিকদের বন্দিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। জম্মুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য এই মুক্তি দেয়া হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জম্মুর যেসব নেতা গৃহবন্দী ছিলেন তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আরোপ করা বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে পঞ্চায়েতরাজ ব্যবস্থার দ্বিতীয়পর্যায় ব্লক উন্নয়ন কাউন্সিলের নির্বাচন ঘোষণা করেছেন জম্মু ও কাশ্মিরের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা, এই কারণেই স্থানীয় রাজনীতিকদের মুক্তি দেয়ার এই সিদ্ধান্ত। আগামী ২৪ অক্টোবর ৩০০টি ব্লক উন্নয়ন কাউন্সিলের নির্বাচন।

 

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, জম্মু অঞ্চলটি শান্তিপূর্ণ হওয়ায় ওই নির্বাচনের আগে রাজনীতিকদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জম্মুর মুক্তি পাওয়া নেতাদের মধ্যে দেভেন্দ্রর সিং রানা, রমন ভল্লা, হার্শদেব সিং, চৌধুরি লাল সিং, ভিকর রাসুল, জাভেদ রানা, সুরজিত সিং সাথিয়া ও সাজ্জাদ আহমেদ কিচলু উল্লেখযোগ্য। ন্যাশনাল কনফারেন্সের দেভেন্দ্রর রানা এনডিটিভিকে বলেছেন, ‘আমার চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না বলে গত সন্ধ্যায় এক পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন।’ জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে একে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরই রাজ্যটিকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দী করে ফেলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

 

এর অংশ হিসেবেই জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহ ও ফারুক আবদুল্লাসহ প্রায় ৪০০ রাজনীতিককে আটক অথবা গৃহবন্দী করা হয়।এদিকে, জম্মুর নেতাদের মুক্তি দেওয়া হলেও মূল কাশ্মীর উপত্যকার নেতাদের কবে মুক্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাচ্ছে না সরকার। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের দু‌মাস পরেও সেখানকার স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার?‌ আর সেই ভয়েই কি মুফতি ও আবদুল্লাহদের মুক্তি দিতে ভয় পাচ্ছে মোদি সরকার। 

Comment As:

Comment (0)