বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার দিক নির্দেশনা: ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম

A+ A- No icon

বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেটি সাধারণ কোনো ঘোষণা ছিলো না, মূলত সেদিন তিনি জাতিকে দিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো।’ ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।’ বলছিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম।


তিনি বলেন, পৃথিবীতে খুব কম মানুষ আছে এই ধরণের একটি ভাষণ দিতে পারে। কোনো প্রকার নোট ছাড়াই। তেজোদীপ্ত ভাষায়। বঙ্গবন্ধুর সর্বশেষ যে বার্তা ‘স্বাধীনতা’ সেখানেও তার সেই কথাটিই এসেছে। যখন আমরা কলকাতা থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচনা করি তখনো তার সে নির্দেশনার ওপরে ভিত্তি করেই করেছিলাম। পহেলা মার্চ পূর্বানী হোটেলে যে মিটিং হয়েছিলো তার একটি তাৎপর্য রয়েছে সেখানে আমি দুটো রেজুল্যাশন লিখেছিলাম যাতে আমাদের কাজ দ্রুত শেষ করতে পারি।প্রথমটি হচ্ছে বিশ্বাসঘাতকতামূলক আচরনের জন্য নিন্দা প্রস্তাব পাশ। দ্বিতীয়টি হচ্ছে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উভয় পার্লামেন্টের পক্ষথেকে বঙ্গবন্ধুকে সমস্ত ক্ষমতা অর্পণ করছি। তিনি যা করবেন সেটাই এই যৌথ পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত বলে পরিগনিত হবে।


তিনি আরো বলেন, তখন বিদেশী সাংবাদিকরা আসতেন, অন্যান্য পার্লামেন্টের সদস্যরা আসতেন, তখন আমি বলেছিলাম, আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি করে সমস্ত ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর ওপর দিয়েছিলাম এবং তার নেতৃত্বেই যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে যদিও তখন তিনি কারাগারে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই মুক্তিযুদ্ধ একেকটা ধাপ পেরিয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করলো, দেশের মানুষ রক্ত দিলো, জীবন দিলো, একটি পরিপূর্ণতা অর্জন করেছে। কিন্তু এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটলো বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো।


তিনি বলেন, আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই জায়গা থেকে উঠে এসে বঙ্গবন্ধুর যে অগ্রযাত্রা কর্মসূচি ছিলো সে কর্মসূচিতেই এগিয়ে যাচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতাকে পরিপূর্ণতা দিতে গেলে যেটি প্রয়োজন সেটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু যে মূল্যবোধ গুলোর জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম, যুদ্ধ আহ্বান করেছিলেন সেই মূল্যবোধ গুলো জাগ্রত করতে হবে।

Comment As:

Comment (0)