ভালো গল্পের খুবই অভাব: চঞ্চল চৌধুরী

A+ A- No icon

অভিনেতা, মডেল ও গায়ক। তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র দুই মাধ্যমেই সমান জনপ্রিয়। যিনি চলচ্চিত্রে কখনো সোনাই, কখনো সোলাইমান, শরাফত করিম আয়না, মিসির আলি হয়ে হাজির হয়েছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। আর অভিনয় নৈপুণ্যে হয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেতা। বলছি অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর কথা। নাট্ক ও চলচ্চিত্রাঙ্গন, নিজের ক্যারিয়ার, সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে মুখোমুখি হন এই অভিনেতা।


তুলনামূলক আগের চেয়ে অনেক কম নাটকে আপনাকে দেখা যায়। এর কারণ কী?
-আমিতো সব সময় এভাবেই কাজ করি। ভালো স্ক্রিপ্ট না পেলে সব কাজ করা হয় না। সবাই জানে আমি বেছে বেছে কাজ করি, অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করি না। আমার কাছে যখন একটি নাটকের অফার আসে গল্প পছন্দ হলে করি, না হলে সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কাজটা করি না। এই কারণে হয়তো একটু কম পাওয়া যায়।


তাহলে বলতে পারি এই সময়ে এসে ভালো চিত্রনাট্যের অভাব বোধ করছেন?
-ভালো চিত্রনাট্যের অভাব এখন না অনেকদিন ধরেই। ভালো গল্পের খুবই অভাব। এক ঘেয়েমি গল্প। এমনও হচ্ছে আমার করা অনেক পুরাতন নাটক দেখে সঙ্গে আরো কয়েকটা দেখে গড়পড়তা গল্প তৈরি করে নাটক নির্মাণ করছেন। সব কিছু মিলিয়ে একটি নাটক করার আগে এই পর্যায়ে এসে ভাবতে হবে কী কাজ করছি। তাই কাজ একটু কম করি।


একটি নাটক করার আগে প্রস্তুতি নেয়ার যে সময় পেতেন, বর্তমানে সে চর্চাটা করা সম্ভব হয়?
-সময়ের চেয়ে বলতে হবে নাটকের আগে যে বাজেট ছিল সেটা এখন অনেক কমে গেছে। বাজেট কমে যাওয়ার কারণে আগে যে সময় নিয়ে নাটক বানানো হতো এখন সেই সময় পাওয়া যায় না। আগে এক ঘণ্টার নাটকের শুটিং করা হতো পাঁচদিনে। এখন সেটা দুইদিনে শেষ করা হয়। কোনো কোনো নাটক আবার একদিনেও শুটিং শেষ হয়, আমি অবশ্য সেই কাজ করি না। একটি নাটকের ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিনদিন সময় লাগে, কিন্তু দুই দিনেই শেষ করা হচ্ছে। না হলে বাজেট মেলাতে সমস্যা হয়। যতো কাজ করছি সব দুইদিনে শেষ হচ্ছে। তাই সেভাবে প্রস্তুতি নেয়া হয় না, এটাই বাস্তবতা।


সব কিছু মিলিয়ে সাবলীল ভাবে চলছে না নাট্যাঙ্গন?
-খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই আমার দৃষ্টিতে। যেভাবে নাটক চলার কথা ছিল, যতোদিন এই ইন্ড্রাস্ট্রির বয়স, সেই জায়গায় পেশাদারিত্বের আরো উন্নতি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেভাবে পেশাদারিত্বটা আসেনি। এখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কার সঙ্গে কার সম্পর্ক আছে সেই হিসেব করে কাজ হয়। যোগ্য অনেক মানুষ কাজ পাচ্ছে না, যোগ্য পরিচালক কাজ পাচ্ছে না, যোগ্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কাজ পাচ্ছে না। বেশির ভাগ কাজ হচ্ছে রিলেশন আর কে কার সঙ্গে লিয়াজু মেইন্টেন করতে পারবে সেই হিসেব করে। ইন্ড্রাস্ট্রির জন্য মোটেও এটা ভালো না।


দর্শকদের বড় একটা অংশ নাটক সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আপনার দৃষ্টিতে কী মনে হয়?
-দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ব্যাপারটা এ রকমও না। ভালো নাটক, খারাপ নাটক সব সময়ই ছিল। এখন ভালো কাজের চেয়ে খারাপ কাজের সংখ্যাটা বেড়েছে। আগেই বললাম যারা ভালো মেকার, অভিনেতা-অভিনেত্রী তারা প্রোপার কাজের সুযোগ পাচ্ছে না। যে কারণে ভালো কাজের সংখ্যা কমে গেছে, খারাপ কাজের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ভালো কাজও হচ্ছে কিন্তু খারাপের ভিড়ে ভালোটা হারিয়ে যাচ্ছে। ইউটিউবে ম্যাক্সিমাম নাটকই কোনটা বেশি ভিউ হবে সেই বিষয় চিন্তা করা হয়। কিন্তু ভালো নাটক বেশি ভিউ হয় না। অনেক ভালো গল্প হয়তো সেই তুলনায় ভিউ নেই। চ্যানেলও ভিউ হওয়া নাটকগুলো নিয়ে চিন্তা করছে, কাস্টিংও সেভাবেই করা হচ্ছে। আর এগুলোই দর্শক দেখছে, দর্শক মুখ ফিরিয়ে কোথায় যাবে। দর্শকদের বিনোদনের মাধ্যমই টেলিভিশন। কিন্তু কাজের ব্যস্তার জন্য ইউটিউবে দেখছে।


যে পরিমান নাটক চ্যানেলে আর ইউটিউবে প্রচারিত হচ্ছে, সংখ্যা অনুযায়ী ভালো নাটকের সংখ্যা কম। আর খারাপ নাটক করলে তো দর্শক মুখ ফিরিয়েই নেবে। কিন্তু ভালো নাটক, ভালো সিনেমা দেখে দর্শক কখনো মুখ ফিরিয়ে নেয় না। দর্শক কখনো খারাপ জিনিস চায় না। তবে দর্শকদের মধ্যেও ক্যাটাগরি আছে। রুচিশীল দর্শক যারা তাদের উদ্দেশ্যে আমি কাজ করি। যাদের নিম্নরুচি তাদের জন্য আমি কাজ করি না। ইন্ড্রাস্ট্রিও এখন হুমকির মুখে আছে, খুব একটা ভালো যাচ্ছে না।

Comment As:

Comment (0)