ছাত্রলীগের ওপর অসন্তুষ্টির কারণ চাঁদাবাজি

A+ A- No icon

ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ঘুম বা অন্য কিছুর চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি। বিষয়টি জাতীয় ইস্যু হয়ে ওঠার আগেই প্রধানমন্ত্রী জানতে পেরেছেন এবং এর সত্যতা পেয়েছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ এখনও কমেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর সামনে ছাত্রলীগের প্রসঙ্গটি তোলেন কয়েকজন নেতা। প্রধানমন্ত্রী তখন ভাবলেশহীন ছিলেন। ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডে। শীর্ষ পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে সংগঠন তার মেয়াদপূর্তি করবে নাকি নতুন সম্মেলন হবে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের কারও দুর্নীতির জন্য পুরো ছাত্রলীগ যেন ভোগান্তিতে না পড়ে, সে আলোচনাও চলছে।

সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যকে চাপে ফেলা এবং পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার জন্য ছাত্রলীগের ওপর বেশি খেপেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপে পাঁচটি নতুন আবাসিক হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা। আর এই টাকা থেকে ঈদুল আজহার আগে ছাত্রলীগকে ২ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। চলমান ক্যাম্পাস উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দেবে না, এই প্রতিশ্রুতিতে ছাত্রলীগ নেতাদের এই টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রক্রিয়ায় ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় একজন সরাসরি জড়িত ছিলেন। এর আগে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি আবাসিক হল নির্মাণে ১ মে দরপত্র আহ্বান করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২৩ মে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে চাঁদা না দেওয়ায় দরপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

 

গত ৯ আগস্ট উপাচার্য তার বাসভবনে বৈঠক করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও শাখার নেতাদের ২ কোটি টাকা ভাগ করে দিয়েছেন বলে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ বের হয়। এর পরপরই ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে সরব হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। গত কয়েক দিনে দুর্নীতির তদন্ত ও গাছ না কেটে বিকল্প স্থানে হল নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে তারা।

Comment As:

Comment (0)