মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বাড়লো ১ বছর

A+ A- No icon

মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট। অপরদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি আগামী বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে। বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

গত ১৮ জুন মানহানির এ দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে একই রুল জারি করেন হাইকোর্ট। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। কিন্তু আদালত এক বছর জামিনের মেয়াদ বাড়ান। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ফাইয়াজ জিবরান, আইনজীবী সালমা সুলতানা সোমা ও গোলাম আকতার জাকির।

 

২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই বছরের ১৪ অক্টোবর বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী।

 

আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। এবি সিদ্দিকী ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি আরেকটি মানহানির মামলা করে তাতে অভিযোগ করেন, শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কটূক্তি করেছেন খালেদা জিয়া। জিয়া চ্যারেটিবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন শুনানি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি হবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।

 

আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আবেদনটি শুনানির জন্য থাকলেও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, আবেদনটি আমরা সবাই মিলে শুনব। বৃহস্পতিবার রাখছি। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে আদালতে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন ও ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

 

আইনজীবী জয়নুল আবেদীন পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত বলছেন আগামী বৃহস্পতিবার ফুল বেঞ্চে শুনবেন। এটা সর্বোচ্চ আদালত। আমরা ন্যায়বিচার আশা করি।’ এর আগে হাইকোর্ট গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দিলে ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন আইনজীবীরা। জিয়া চ্যারেটিবল ট্রাস্টের নামে আসা প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

 

পাশাপাশি তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার চার দিন পর গত বছর ১৮ নভেম্বর খালেদা জিয়ার দণ্ড বাতিল ও খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। ৬৩৮ পৃষ্ঠার মূল রায়সহ প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই আপিলের সঙ্গে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনও করা হয়।

 

গত ৩০ এপ্রিল ওই আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। সেদিন বিচারিক আদালতের রায়ে দেয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি নথিভুক্ত করে মামলার নথি তলব করেন হাইকোর্ট। গত ২০ জুন এ মামলার রেকর্ড (মূল নথি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা পড়লে গত ২৩ জুন নথিভুক্ত জামিন আবেদনটি উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এরপর খালেদা জিয়া ও দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন আদালত। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন।

Comment As:

Comment (0)