দালালদের ধরতে ডিসিদের সহায়তা চাইলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

A+ A- No icon

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, সমুদ্রপথে মানুষ অবৈধভাবে বিদেশে যাচ্ছে-এটা বন্ধ করতে আমি তো পুরো সমুদ্র পাহারা দিয়ে রাখতে পারব না। এজন্য বিদেশগামী যাত্রীদের হয়রানি ও প্রতারণা রোধে দালালদের ধরতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহায়তা চেয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমি ডিসিদের বলেছি দালালদের ধরেন, যে দালালরা গরিব মানুষদের লুটেপুটে দেড় লাখ টাকার জায়গায় সাত লাখ টানা নেয়। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এ কার্য অধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এতে সভাপতিত্ব করেন।

 

বিদেশগামী যাত্রীদের হয়রানি ও প্রতারণা রোধে দালালদের ধরতে জেলা প্রশাসকদের কোন নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, আমি ডিসিদের কোনো নির্দেশনা দেইনি, আমি তাদের কাছে সাহায্য চেয়েছি, আমি তাদের বলেছি দালালদের ধরেন, যে দালালরা গরিব মানুষদের লুটেপুটে দেড় লাখ টাকার জায়গায় সাত লাখ টানা নেয়। এভাবে যারা যায় তারা বিদেশে অবৈধ হিসেবে থাকে, এটা দেশের জন্য খারাপ, মানুষ তো মরেই। মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যাতে পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াটা একটা সিস্টেমে ফেলতে পারি, গরিবরা যাতে নিরাপদে যেতে পারে, এই ব্যবস্থা যাতে হয়। তিনি বলেন, বিদেশগামী মানুষদের স্মার্টকার্ড নিতে বা যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ঢাকায় আসতে হয়, এতে তাদের ভোগান্তি হয়। ডিসিরা এসব প্রক্রিয়া জেলায় করার প্রস্তাব দিয়েছেন-এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাব দিলেও আমরা আগেই কাজ আরম্ভ করেছি। বিদেশগামীদের নিবন্ধন করার কাজ হাতে নিয়েছি, আমরা চেষ্টা করবো একেবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার থেকে যাতে তারা নিবন্ধন করতে পারে, সেই ব্যবস্থা আমরা করবো।

 

সমুদ্রপথে মানুষ অবৈধভাবে বিদেশে যাচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইমরান আহমদ বলেন, আমি তো পুরো সমুদ্র পাহারা দিয়ে রাখতে পারব না। যারা ওদের নিয়ে যায় আমরা যদি তাদের চিহ্নিত করে ধরতে পারি, তবে আমরা কাউকে ছাড়বো না। এদের ধরতে একটু সময় লাগতে পারে। মন্ত্রী বলেন, যারা বৈধভাবে বিদেশে গিয়ে মারা যান, তারা দেশে আসলে এয়ারপোর্টেই আমরা দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে দেই। এরপর কল্যাণ ফান্ড থেকে আরও ৩ লাখ টাকা দেই। যারা অবৈধভাবে গেছে তাদের নিয়ে কিছুটা সমস্যা হয়। আমি আসার পর সেখানেও (অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া কেউ মারা গেলে) আমরা খরচটা বহন করি। অনেক টাকা আমরা বিভিন্ন দূতাবাসে পাঠাই লাশ বহনের জন্য। বৈধ হোক অবৈধ হোক আমরা চেষ্টা করি সব সময় লাশ নিয়ে আসার জন্য। বিদেশগামী যাত্রীদের হয়রানি রোধে এজেন্সিগুলোর ভূমিকা থাকতে হবে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, আমরা এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছি। আর দালালদের কাট (বাদ দেয়া) করার একটা সিস্টেম করতে হবে। যারা বিদেশে যেতে ইচ্ছুক তারা যেন সরাসরি নিবন্ধন করেন, এরপর প্রক্রিয়া হলো- তখন যে টাকা লাগে তা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংকে জমা দেন, মেডিকেল ফিসসহ সব সব ধরনের খরচ ওখান থেকে করা হবে। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, চিন্তা-ভাবনা অনেক ভালো আছে। দোয়া করবেন যাতে আমরা করতে পারি।

Comment As:

Comment (0)