সর্বশেষ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ ভোট আরও আছে, রাহুলকে মোদীর ‘উপদেশ’ ২০৩০ সালের মধ্যে ২ কোটি চাকরি দখল করবে রোবট চাপের মুখে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেবেন মুলার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ

ঘুরে আসুন বাকৃবি বোটানিক্যাল গার্ডেন

A+ A- No icon

বিলুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদরাজিকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে ১৯৬৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ এবং তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওসমান গণির হাত ধরে ২৫ একর (প্রায় ৭৫ বিঘা) জমি নিয়ে গার্ডেনটি যাত্রা শুরু করে। গার্ডেনটি শুধু যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য এনে দিয়েছে তাই নয়, এর মাধ্যমে পুরো ময়মনসিংহ শহরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন মাত্রা। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে গড়ে ওঠা গার্ডেনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনোদনের পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসু ও স্থানীয় বিনোদনপ্রেমীর প্রধান কেন্দ্র। বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ, চিরহরিৎ বনাঞ্চল, ঝাউ-থুজা, ঊষর মরুর বুকে প্রাণ জাগানিয়া রক গার্ডেন, শাপলা-পদ্মফুলের ঝিল, কৃত্রিম দ্বীপ, নারিকেল কর্নার, বিলুপ্তপ্রায় বাঁশঝাড়সহ বিচিত্র উদ্ভিদের সমাহার এখানে।


রক্ষণাবেক্ষণ: বাগানের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন একজন কিউরেটর। এছাড়াও রয়েছেন দুইজন বাগান তত্ত্বাবধায়কসহ প্রায় ৩০ জনের মতো কর্মচারি ও একজন মালি। তারা নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে আগলে রেখেছেন এটিকে। বাগানের তত্ত্বাবধানের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ওকিল মিয়া। বাগানের সাথে তার সম্পর্ক প্রায় ৩০ বছরের। রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে সব উদ্ভিদের খোঁজ রাখেন। বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল উদ্ভিদগুলোকে সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজ করেন। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের সন্ধান পেলেই সংগ্রহ করার জন্য ছুটে যান দলবল নিয়ে। তিনি জানান, গার্ডেনের আজকের অবস্থানে আসার জন্য দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানী, দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারির অবদান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজন গার্ডেনের কিউরেটরের দায়িত্ব পান। তার তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হয় গার্ডেন।


উদ্ভিদ: সরকারি হিসাব মতে, সর্বাধিক উদ্ভিদ প্রজাতির আধার এ গার্ডেন জীববৈচিত্রের দিক দিয়েও সবচেয়ে এগিয়ে। উদ্ভিদরাজি সমন্বয়ে গঠিত গার্ডেনটি ৩০টি জোনে বিভক্ত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অঞ্চলের বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় কয়েক হাজার উদ্ভিদের বিশাল সংগ্রহশালা গার্ডেনটি। দেশি প্রায় সব প্রজাতির উদ্ভিদের পাশাপাশি বিদেশি অনেক বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। ছোট-বড়-মাঝারি ধরনের অসংখ্য গাছে ভরপুর গার্ডেনে রয়েছে প্রায় ১০০০টি বড়, ১২৭৮টি মাঝারি ও ৪৪৬৭টি ছোট গাছসহ প্রায় ৬০০ প্রজাতির উদ্ভিদ।


ওষুধি, ফুল, ফল, ক্যাকটাস, অর্কিড, পাম, সাইকাস, মসলা, টিম্বার, বাঁশ, বেত, বিরল উদ্ভিদ ও বনজ উদ্ভিদ জোনসহ জলজ উদ্ভিদ (হাইড্রোফাইটিক) সংরক্ষণের জন্য ওয়াটার গার্ডেন, মরুভূমি ও পাথুরে অঞ্চলের উদ্ভিদ সংরক্ষণের জন্য রক গার্ডেন গড়ে তোলা হয়েছে। বাগান পরিচালনার জন্য ভেতরে রয়েছে দুই তলা অফিস কক্ষ। অফিস কক্ষ সংলগ্ন নিসর্গ ভবনের ভেতরে রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় অসংখ্য প্রজাতির ক্যাকটাস। এর অপরূপ সৌন্দর্যই যেন নিসর্গ নামের সার্থকতা বহন করছে। বাগানের সর্ব দক্ষিণের রয়েছে মনোরম অর্কিড হাউস। 


পাম সাইকাড গার্ডেন: ঠিক মাঝখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাম সাইকাস গার্ডেন জোন। দর্শনাথীরা সারা পৃথিবীতে জন্মে থাকা ৩৩ ধরনের পাম এখানে একসাথে দেখতে পারবেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সুগার পাম, তাল, ফিশটেইল পাম, বনসুপারি, ক্যামোডোরা পাম, তালি তাম, অয়েল পাম, চায় পাম, বোতল পাম, সালাক পাম, ওয়াশিংটন পাম, জামিয়া পাম প্রভৃতি।


সুন্দরবন জোন: অনেকের ধারণা সুন্দরবনেই মনগ্রোভ উদ্ভিদ জন্মে। ধারণাটিকে মিথ্যা প্রমাণ করে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অনুরূপ জলবেষ্টিত একটি সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রমধর্মী সুন্দরবন জোন, যা বাংলাদেশে প্রথম ও একমাত্র। শ্বাসমূল (নিউমেটাফোর) ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা এখানে সংরক্ষিত। সুন্দরবনের সুন্দরি গাছও এখানে পাওয়া যায়। এছাড়া রয়েছে গরান, গেওয়া, কেওড়া, পশুর, বাইন, হোগলা ও ফার্ণ জাতীয় নানা প্রজাতির উদ্ভিদ।


অনান্য উদ্ভিদ: গার্ডেনের একেকটি জোনে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ। যার কারণে খুব সহজেই উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। গার্ডেনের ওষুধি গাছের মধ্যে রয়েছে অশ্বগন্ধা, সর্পগন্ধা, গন্ধভাদুলি, পুনর্নভা, কুর্চি, বচ, উলটচন্ডাল, অন্তমূল, অঞ্জন প্রভৃতি। বিভিন্ন ধরনের ফুলের মধ্যে রয়েছে কমব্রিটাম, রনডেলেসিয়া, পালাম, ক্যামেলিয়া, আফ্রিকান টিউলিপ, ট্যাবেবুঁইয়া, রাইবেলি, জেসিয়া, ডায়ান্থাস, সিলভিয়া, হৈমন্তি প্রভৃতি। ফলের মধ্যে রয়েছে স্টার আপেল, আমেরিকান পেয়ারা, থাই মালটা, আঙুর, প্যাসান ফলসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী ফল। এছাড়া বাঁশ বাগানে রয়েছে ১৬ প্রজাতির বাঁশ, মসলা জোনে রয়েছে একশ’র বেশি মসলা জাতীয় উদ্ভিদ।

Comment As:

Comment (0)