তেঁতুলিয়া থেকে হিমালয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা অবলোকন

A+ A- No icon

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। আর সবচেয়ে উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এখানেই অবস্থিত। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জনপদের নাম পঞ্চগড়। শীতপ্রবণ এ জেলার তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যায় বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা।

 

ওপারে হিমালয় পর্বতমালা

চোখের কাছে ভেসে থাকা হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দুর্লভ মায়াবী দৃশ্য! বাংলাদেশ আর ভারত সীমান্তের বুক চিরে বয়ে যাচ্ছে মহানন্দা নদী। এ তীর থেকে দেখা যায় এ অপূর্ব দৃশ্য। কয়েক বছর থেকে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম দৃশ্য। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত শীতের মেঘমুক্ত নীলাকাশে ভেসে ওঠে তুষার শুভ্র হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘা।

 

অক্টোবর আর নভেম্বরে মনোরম দৃশ্য তৈরি হয় হিমালয় আর কাঞ্চনজঙ্ঘায়। শীতকাল জুড়েও আবছা আবছা দেখা যায় এ অসাধারণ দৃশ্য দেশের সীমান্ত থেকেই। বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের দুরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, এভারেস্ট শৃঙ্গ ৭৫ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, চীন ২০০ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার ও শিলিগুড়ি ৮ কিলোমিটার আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দুরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। দিনের আলো শেষে ভারত সীমান্তের কাঁটা তার ঘেঁষে জ্বলে ওঠে ভারতের সার্চলাইটের আলো। আর ওপারের অদূরের শিলিগুড়ির নিয়নবাতি জ্বলজ্বল করে। এপারে আমরা। মাঝখানে ঐতিহাসিক মহানন্দা নদী কুলকুল করে বয়ে চলে।

 

কী মায়াবী দৃশ্য! আর জোছনা রাত হলে কবি না হলেও কবি হয়ে যেতে হবে! বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু হওয়ায় প্রতিদিনই তেঁতুলিয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসু প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় বাড়ছে। দার্জিলিং না গিয়েই হিমালয় আর কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব রূপ দেখে মুগ্ধ হচ্ছে! তেঁতুলিয়া যেতে যেতে অর্গানিক বা সমতল ভূমির চা বাগান পর্যটকদের মুগ্ধ করবেই। একেবারেই বাংলাদেশের রাস্তা ঘেঁষে ভারতীয় চা বাগানগুলো যেন সবুজের হাতছানি। যেন থরে থরে সবুজ বিছানো। রাতের কৃত্রিম আলোয় চা বাগানগুলো সবুজ সবুজ খেলা করে। অলি-ভ্রমর গুনগুন করে মুগ্ধ করবেই আপনাকে। গুনগুন করে গান গেয়ে যাবেন- ‘ এ পথ যদি শেষ না হয় তবে কেমন হতো তুমি বল তো...’

 

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় কিংবা তেঁতুলিয়া অথবা বাংলাবান্ধায় সরাসরি দূরপাল্লার কোচ (দিবারাত্রি) যাতায়াত করে। ঢাকা থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, কেবি এন্টারপ্রাইজ, এবি এন্টারপ্রাইজ, বিআরটিসি কোচ সার্ভিসের মাধ্যমে আপনি সহজেই তেঁতুলিয়া আসতে পারেন। যাত্রাপথে সময় ব্যয় হবে ৮ থেকে সাড়ে ৮ ঘণ্টা। খরচ পড়বে জনপ্রতি ৫০০-৬০০ টাকা। ট্রেনেও সরাসরি যাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে নীলফামারী/দিনাজপুরগামী নীলসাগর, একতা বা দ্রুতযান এক্সপ্রেসে। নেমে পড়ুন পার্বতীপুর। এখান থেকে অন্য ট্রেনে পঞ্চগড়। পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়াগামী অনেক বাস পাবেন।

 

থাকা ও খাওয়া

রাত যাপনের জন্য বেসরকারি কোনো ব্যবস্থা গড়ে না উঠলেও এখানে সরকারি দুটি রেস্ট হাউস আছে। একটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে সরকারি ডাকবাংলো ও অপরটি জেলা পরিষদ ডাকবাংলো। ডাকবাংলোগুলোতে অবস্থান করতে হলে আপনাকে পঞ্চগড় জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের অফিস ও জেলা পরিষদ অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে বুকিং নিতে হবে। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো থেকেই দেখতে পারবেন অপরূপ দৃশ্য-দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, হিমালয় এভারেস্ট কিংবা কাঞ্চনজঙ্ঘার। এছাড়া পঞ্চগড়ে অনেক হোটেল পাবেন থাকার জন্য। আর দেরি না করে চলুন আমরাও বেরিয়ে আসি উত্তরের জেলা থেকে।

Comment As:

Comment (0)