উল্টো পৃথিবীর গল্প

A+ A- No icon

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই এসে পড়লাম অন্য এক পৃথিবীতে! চেয়ার, টেবিল, বিছানা এমনকি টয়লেটের কমোডও উল্টো হয়ে ঝুলে আছে! পৃথিবী উল্টে গেছে নাকি আমিই উল্টে গেলাম? এমন প্রশ্ন হাতড়াতে হাতড়াতে পাশের রুমে গিয়ে দেখি রঙিন সিঁড়ি। তবে সেটা ফ্লোর থেকে উঠছে না, নেমে আসছে সিলিং থেকে! গোলকধাঁধাময় রূপকথার এই রাজ্য ঢুঁ মারতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে রাজধানীর লালমাটিয়াতে। ‘আপসাইড ডাউন’ গ্যালারি শুরু হয়েছে মাত্র গত মাসেই, তবে এর মধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে বিনোদনপ্রেমীদের কাছে।


আপসাইড ডাউনের উদ্যোক্তা চার বন্ধু। ‘ঢাকাবাসীর বিনোদন আজকাল রেস্টুরেন্টকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। নতুন ধরনের বিনোদন কেন্দ্র কী করা যায় এটা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই এই উল্টো পৃথিবীর পরিকল্পনা আসে মাথায়। বিশ্বের অনেক দেশে এই ধরনের গ্যালারি আছে। তবে বাংলাদেশে এটাই প্রথম’- বললেন আপসাইড ডাউনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ইশতিয়াক মাহমুদ অনিক। বাকি তিন উদ্যোক্তা হলেন শাফি আহমেদ জনি, আসিফুর রহমান ও মাহবুব ইমেল। চাকরি, ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সবাই একসঙ্গে ব্যতিক্রমী কিছু একটা করার ইচ্ছা থেকেই আপসাইড ডাউনের পথচলা শুরু হয়।


গ্যালারি ঘুরতে এসেছিলেন দীপ্তি ও রেদোয়ান। উচ্ছ্বসিত এই দম্পতি বললেন, ‘দেশের বাইরে এই ধরনের গ্যালারির অনেক ছবি দেখতাম। এবার নিজ শহরে এমন কিছু পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এখানকার স্টাফদের ব্যবহারও অত্যন্ত অমায়িক।’


অনিক জানালেন, প্রায় এক বছরের প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের পর মে মাসের ১৭ তারিখ গ্যালারি উন্মুক্ত করেন দর্শকদের জন্য। যথেষ্ট শঙ্কা ছিল, যেহেতু দেশে একেবারেই নতুন এ ধরনের গ্যালারি। পাশাপাশি চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল অনেক। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সেফটি ইস্যু। কোনও ধরনের দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সেটা নিয়ে থাকতে হয়েছে সচেতন। তবে আশার কথা, দর্শকদের সাড়া পেয়েছেন অভাবনীয়। এই সাড়াকেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন অনিক।


‘একবারে ৫০ জনের বেশি প্রবেশ করতে পারেন না গ্যালারিতে। অনেকেই অপেক্ষা করেন বাইরে। তবে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রবেশ করে সবাই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। ভুলে যান অপেক্ষা করার বিরক্তি। এটাই আমাদের জন্য বিশাল প্রাপ্তি’- বলেন অনিক। আপসাইড ডাউনে রয়েছে বেডরুম, কিচেন, কিডস রুম। অনিক জানালেন দর্শক যেন একঘেয়েমিতে না ভোগেন সেজন্য কিছুদিন পর পর বদলে ফেলা হবে রুমের ইন্টেরিওর। এছাড়াও কাজ চলছে আরও কয়েকটি রুমের। উল্টো পৃথিবীতে প্রবেশ করতে চাইলে টিকিটের মূল্য গুণতে হবে ৪৫০ টাকা।

Comment As:

Comment (0)