বিশ্বের সেরা রোমান্টিক 'ডাকবাক্স'

A+ A- No icon

ভালোবাসার মানুষ চান? চলে আসুন গাছের কাছে। জার্মানির ইউটিন শহরে একটি ওকগাছ আছে- যে গাছের গায়ে আপনার চিঠি লিখে এলেন। আর সেই চিঠি পড়ে যার পছন্দ হল সে জবাব দিল। শুরু হল প্রেম। অতঃপর বিয়ে। ভাবছেন সিনেমার গল্প! কিন্তু না, বাস্তব।


ইউটিন শহরের ডোডাওয়ের বনের একটি ওকগাছের কাণ্ডকে বলা হচ্ছে পৃথিবী সবচেয়ে ‘রোমান্টিক ডাকবাক্স’। ওকগাছটির বয়স প্রায় ৫০০ বছর। পরিচিত ‘বর ওকগাছ’ নামে। গাছটি একশরও বেশি বিয়ের সাক্ষী। বর্তমানে সারা বিশ্ব থেকে প্রেমিক-প্রেমিকারা এ গাছের ঠিকানায় চিঠি লিখে এই আশায় যেন তারা তাদের ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে পায়।


ঘটনার সূত্রপাত ১৮৯০ সালে। মিন্না নামের সাধারণ এক গ্রামের মেয়ে উইলহেম নামের এক তরুণ চকলেট বিক্রেতার প্রেমে পড়েন। কিন্তু মিন্নার বাবা তাকে উইলহেমের সঙ্গে মেলামেশা করতে নিষেধ করে দেন।


তারা নিজেরা মেলামেশা বন্ধ করলেও প্রতিনিয়তই এই ওকগাছের একটি গর্তে কাগজে লিখে তাদের গোপন বার্তাগুলো আদান-প্রদান শুরু করেন। এক বছর পর মিন্নার বাবা তাদের বিয়ের অনুমতি দেন। ১৮৯১ সালের ২ জুন এই ওকগাছের নিচেই তাদের বিয়ে হয়।


মিন্না-উইলহেমের জুটির গল্প রূপকথার মতো পুরো জার্মানিতেই ছড়িয়ে পড়ে এবং যাদের রোমান্টিক সঙ্গী নেই বলে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন তারাও এই ওকগাছের ঠিকানায় চিঠি পাঠানো শুরু করেন। ১৯২৭ সালে এই গাছের ঠিকানায় এত চিঠি এসেছিল যে জার্মান ডাকঘর বিভাগ ‘ডুয়েটসে পোস্ট’ এই ওকগাছের জন্য নির্দিষ্ট পোস্টকোড ও পোস্টম্যান রাখতে বাধ্য হয়েছিল।


এই গাছে একটি মইও ভেড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল যেন সবাই চিঠি পড়তে পারে ও জবাব দিতে পারে। জার্মানির ডাকঘর ডুয়েটসে পোস্টের মুখপাত্র মার্টিন গ্রুন্ডলার বলেন, ‘প্রতিবছর প্রায় এক হাজার চিঠি এ গাছের ঠিকানায় এসে থাকে। গ্রীষ্মকালেই বেশিরভাগ চিঠি আসে। আমার মনে হয় এসময়ই বেশিরভাগ মানুষ প্রেমে পড়তে চায়।’


একটি প্রচলিত কথা আছে এই ওকগাছ নিয়ে। কেউ যদি মন থেকে কাউকে চায় এবং পূর্ণিমার রাতে কোনো কথা না বলে শুধু তার প্রিয়তমর কথা মনে করে এই গাছের গুঁড়ির চারপাশে তিনবার হাঁটাহাঁটি করে তাহলে এক বছরের মধ্যেই তার সঙ্গে বিয়ে হবে।


২০০৯ সালে দীর্ঘ একশ বছর ধরে চিঠির মাধ্যমে প্রেমিক-প্রেমিকাকে কাছাকাছি নিয়ে আসার পরে এই ওকগাছকে ২০০ বছরের পুরনো একটি কাঠবাদাম গাছের সঙ্গে প্রতীকী বিয়ে দেয়া হয়। যদিও ওকগাছের চেয়ে গাছটি ৫০৩ কিলোমিটার দূরে ছিল। বেশি বয়স হওয়ার কারণে কাঠবাদাম গাছটিকে অবশ্য ৬ বছর পর কেটে ফেলা হয়।

Comment As:

Comment (0)