সর্বশেষ:
পাকিস্তানে আবাসিক এলাকায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৯৭ করোনায় আক্রান্ত হলে উচ্চ মনোবল রাখা জরুরি শনিবার বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি। সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে । স্ত্রীসহ করোনা আক্রান্ত সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী করোনার প্রথম ভ্যাকসিন তৈরির দাবি জানালো ইতালি

যেখানে রাস্তার ধুলো উড়ালেই মিলছে সোনা!

A+ A- No icon

বাংলা একটি প্রবাদ আছে ‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন।’ নিশ্চয় এই প্রবাদটি সবারই জানা। যদিও অনেকেই মজা করার ছলে কথাটি বলে থাকেন। তবে সত্যিই যদি এমনটা হয়! হ্যাঁ, এই কথাটির যথার্থ মানে খুঁজে পাওয়া যাবে কলকাতার শিয়ালদহের বড় বাজার কিংবা বউ বাজারে গেলে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এর পেছনের রহস্যটি-


ভোর হতে না হতে ওখানের মানুষজন হাতে একটা ঠোঙা নিয়ে লেগে পড়েন ধুলো কুড়ানোর কাজে। বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেই থাকে এই দলে। বেশ দারুণ জমজমাট ব্যাপার। প্রথম দেখে হয়তো অনেক ভ্যাবাচ্যাকা খাবেন কিংবা গোটা কয়েক ভিমরিও খেতে পারেন। অনেকেতো বলেই ফেলেন- একিরে বাবা ধুলো কুড়ানোর এত হিড়িক। কি আছে এই ধুলোতে! এই ধুলোতে লুকিয়ে আছে অনেক দামী জিনিস। যা দিয়ে রীতিমত অনেকের সংসারের রুজি রোজগার চলে। এতদূর শুনে নিশ্চয় পুরো ব্যাপারটা জানার আগ্রহ বাড়ছে!


তাহলে এবার পরিস্কার করেই বলা যাক। শিয়ালদহের বউ বাজার অথবা কলকাতার বড়বাজার মূলত পরিচিত সোনা পট্টি হিসেবে। এখানে শুধু যে বড় বড় সোনার দোকান আছে তা নয়, এর সঙ্গে লাইন ধরে গলিগুলোতে আছে ছোট খাটো অনেক সোনার কারিগরদের দোকান। যারা দিনের ২৪ ঘণ্টাই সোনার গয়না বানানোর কাজ করে।


দেখা যায়, গয়না তৈরির সময় যে সোনার গুঁড়া মাটিতে পড়ে তা এতটাই সুক্ষ যে ব্যবহার করা যায়না। সকালে এবং রাতে দোকান যখন ঝাঁড়ু দেয়া হয় তখন ধুলোর সঙ্গে সোনার গুঁড়া মিশে যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এখানে এই সোনা মেশানো ধুলো কুড়ানোর জন্য আশে পাশের অনেক বস্তির লোকেরা লেগে পড়ে। সকালে দোকানপাট খোলার আগে এরা ভিড় জমাতে থাকে। যে আগে যাবে সে অনেক বেশি ধুলো কুড়াতে পারবে। আর সে তত বেশি লাভ করতে পারবে। ধুলো থেকে সোনা বাছাইয়ের কাজটিও খুব সহজ। এরা সারাদিন যা ধুলো জমায় তা রাতে জলে ভিজিয়ে রাখে। জলের মধ্যে সব ধুলো নিচে পড়ে যায়। আর সোনার গুড়া জলে ভেসে ওঠে। তা ছেঁকে আলাদা করে নেয়। এই প্রক্রিয়াতেই চলে গোটা কাজটা।


বউ বাজারের এক সোনার দোকানদার বলছেন ধুলো থেকে সোনা বাছাইয়ের কাজটা বেশ অনেকদিন থেকে চলে আসছে। এই কাজের সঙ্গে অনেকে যুক্ত আছে। সোনার গুঁড়াগুলো অল্প দামে কিনি এদের থেকে। মজার একটা ব্যাপার হচ্ছে, ধুলো কুড়িয়ে টাকা আয় করা যায় তা এদের না দেখলে হয়তো জানা যেতো না। তাই ক্ষুদ্র বালিকণাকেও অবহেলা করা ঠিক নয়।

Comment As:

Comment (0)