রূপসী কন্যার দেশ বান্দরবানে 'ইত্যাদি'

A+ A- No icon

বান্দরবান শহরের প্রাণকেন্দ্রে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬০০ ফুট ওপরে টাইগার পাহাড়ের চূড়ায় পর্যটন কেন্দ্র নীলাচলে ধারণ করা হয়েছে এবারের ‘ইত্যাদি’। মূলত পার্বত্য জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে নির্মাণ করা আলোকিত মঞ্চের সামনে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে এবারের ইত্যাদি।

 

শিকড় সন্ধানী ইত্যাদিতে যেমন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচারবিমুখ, জনকল্যাণে নিয়োজিত মানুষদের খুঁজে এনে তুলে ধরা হয় তেমনি গত প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইত্যাদি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে দেশি-বিদেশি অচেনা-অজানা স্থানের তথ্যভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রতিবেদন প্রচার করছে। বান্দরবানের ইতিহাস, ঐতিহ্যর পাশাপাশি এবার রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত, দর্শনীয় ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানগুলোর ওপর তথ্য ভিত্তিক প্রতিবেদন।

 

আসলে বান্দরবানে এমন এমন দুর্গম অঞ্চল রয়েছে যেখানে টিভি অনুষ্ঠান নির্মাণ তো দূরের কথা, কোনো টিভি ক্যামেরাও কখনো পৌঁছায়নি। বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সহযোগিতায় সেসব স্থানে গিয়েও অনেক চিত্র ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চঞ্চল কান্তি চাকমার ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ওপর একটি মানবিক প্রতিবেদন। এবারের আয়োজনে মূল গান রয়েছে দুটি। ইত্যাদিতে সবসময় ভিন্ন আঙ্গিকে বিষয় ভিত্তিক গান প্রচার করার চেষ্টা করা হয়।

 

সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ইত্যাদিতে রয়েছে বাংলা ও মারমা গানের দু’জন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর কণ্ঠে একটি অনুরাগের গান। শিল্পী দু’জন হলেন—বাংলা গানের আঁখি আলমগীর এবং মারমা গানের মান মান সিং। গানটি লিখেছেন প্রখ্যাত গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। এছাড়াও বান্দরবানের সবুজ-শ্যামল রূপবৈচিত্র্য নিয়ে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের কথা, হানিফ সংকেতের সুর ও মেহেদীর সংগীতায়োজন।

 

একটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন বান্দরবানের ১১টি নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি শিল্পীদের সমন্বয়ে শতাধিক নৃত্যশিল্পী। নাচের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন চথুইফ্রু মারমা, কমল, হ্লামেচিং মারমা ও তানজিনা রুমা। মারমা ভাষায় গানটি অনুবাদ করেছেন চথুইফ্রু মারমা, নৃত্য পরিচালনা করেছেন প্রাণ গোপাল। ইত্যাদির এই বান্দরবানের পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত হবে ২৯ নভেম্বর রাত ৮ টার বাংলা সংবাদের পর।

Comment As:

Comment (0)