চোখের সাজে সতর্কতা

A+ A- No icon

চোখ সাজাতে গিয়ে হতে পারে বিপত্তি। সামান্য অসতর্কতায় হয়ে যেতে পারে বড় কোনো ক্ষতি। প্রতীকী অর্থে বলতে গেলে চোখ সাজানোর সময় চোখ খোলা রেখেই সাজানো উচিত। সাধারণত সব প্রসাধনেই কমবেশি রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যে কারণে চোখে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা বা প্রদাহ হতে পারে। চোখ সাজাতে গিয়ে চোখের কনজাংটিভা নামক স্তরে এমন সমস্যা হতে পারে সহজেই। সৌন্দর্য বাড়ানো ছাড়া চোখের অন্য কোনো কাজেও আসে না প্রসাধনসামগ্রীগুলো। তাই যখন প্রয়োজন, ব্যবহার করুন তখনই। আর তা স্বল্প সময়ের জন্যই। সৌন্দর্যের জন্য চোখে নানা প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার করা হলেও সেটা চোখের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ভালো নয়। বৈজ্ঞানিক দিক থেকে চিন্তা করলে প্রসাধনসামগ্রীর ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো সহজেই বোঝা যায়। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে এমন কোনো উপকরণ ব্যবহার না করাই ভালো, যেটা ক্ষতি করতে পারে চোখের। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন চোখ সাজানোর সময় কোন কোন বিষয়ে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। 


আইশ্যাডো 
পাউডার আইশ্যাডো দেওয়ার ১০ মিনিট আগে প্রাইমার লাগাতে হবে। প্রাইমার না থাকলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। চোখের সাজে একটি তরল ভিত বা বেজ তৈরি করা প্রয়োজন। গুঁড়া পাউডার বসবে সহজে। এতে চোখে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে। ফোম ব্রাশ, আইশ্যাডো ব্রাশ বা হাত দিয়ে ব্লেন্ড করে আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। যেভাবেই আইশ্যাডো দিন না কেন, আগে আইশ্যাডোর বাড়তি গুঁড়া ফেলে দিন। নইলে এগুলো চোখে চলে যেতে পারে। হাত দিয়েই হোক বা ব্রাশ দিয়ে—আইশ্যাডো অবশ্যই ভালোভাবে বসিয়ে দিতে হবে।


কাজল, লাইনার আর মাসকারা
আইলাইনার চোখে দেওয়ার আগেই আঙুলের ত্বকে দিয়ে দেখুন। চুলকানি বা লালচে ভাব হলে সেটি আর চোখে দেবেন না। অনিয়মিত ব্যবহারের ফলে আইলাইনার বা মাসকারা পানি ছেড়ে দিতে পারে। এখানে জীবাণুর সংক্রমণও হতে পারে। এগুলো চোখে দেওয়ার আগে আঙুলে লাগিয়ে অপেক্ষা করে দেখুন, ঠিকভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে কি না। আঙুলে সঠিকভাবে না শুকালে তা চোখে দেবেন না।
কারও চোখ অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হলে এক টানে আইলাইনার দেওয়া একটু কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। চোখ থেকে পানি পড়ে, বারবার মুছতে গিয়েও সমস্যা হয়। আইলাইনার দেওয়ার সময় কোনার দিক থেকে শুরু না করাই ভালো। মাঝ বরাবর শুরু করে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যান। এরপর আবার গোড়ার প্রান্ত থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত।


আইলাইনারের সূক্ষ্ম তুলি ব্যবহার করুন। আইলাইনার কখনোই চোখের একবারে কাছের লাইনে (যেখানে কাজল দেওয়া হয়) দিতে নেই। চোখের ভেতরেও যেন লাইনার না লাগে। কাজল বা রঙিন পেনসিল ব্যবহারের সময় অবশ্যই খুব সতর্ক থাকতে হয়। চোখের নিচের অংশে কাজল বা রঙিন পেনসিল ব্যবহার করতে চাইলে আঙুল দিয়ে একটু টেনে নিয়ে সাবধানে ব্যবহার করুন। শেষ হয়ে গেলে সাবধানে ছেড়ে দিন। খুব ভালোমতো আকার করে নিন দেওয়ার আগেই। কাজল বা পেনসিলে যেন কাঠের গুঁড়া রয়ে না যায়। মাসকারা খুব দ্রুততার সঙ্গে ব্যবহার করবেন না। সাবধানে ধীরে ধীরে ব্যবহার করুন, যাতে চোখে লেগে না যায়। ধাপে ধাপে লাগাতে হবে মাসকারা। একটি ধাপ শেষ হওয়ার পর শুকিয়ে গেলে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।


কনট্যাক্ট লেন্স
চোখে কনট্যাক্ট লেন্স পরা ক্ষতিকরই বটে। এর ওপর মানহীন লেন্স কিনে বিপদের ভয় তো আছেই। তারপরও যদি নিতান্ত বাধ্য হয়ে কনট্যাক্ট লেন্স পরতেই হয়, তাহলে খেয়াল রাখুন কিছু বিষয়।
ভালো ব্র্যান্ডের আসল পণ্য কিনুন। যথানিয়মে সংরক্ষণ করুন। লেন্স পরার আগে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন। সাবধানে নিয়ম মেনে লেন্স লাগান। লেন্স খোলার সময়ও নিয়ম অনুসারে খুলুন। লেন্স একটানা পরে থাকা যাবে না। দু–তিন ঘণ্টা পর লেন্স খুলে নির্দিষ্ট দ্রবণে ভিজিয়ে রাখুন। প্রতিবারই পরিষ্কার করে লেন্স হোল্ডারে লেন্স রাখুন। তবে দ্রবণের মান ও মেয়াদ দেখে নিন। আবার লেন্স পরতে চাইলে পছন্দমতো একই ধরনের অন্য লেন্স বা সম্পূর্ণ অন্য ধরনের কোনো লেন্স পরুন। একেবারেই আর কোনো উপায় না পেলে পরিষ্কার করা লেন্স জোড়া আবার পরতে পারেন, তবে এই লেন্স জোড়া তখনই পুনর্ব্যবহার না করা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। কোনো লেন্স পরলেই যদি জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা চোখ থেকে পানি পড়ার মতো সমস্যা শুরু হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই তা খুলে ফেলতে হবে। কিছুক্ষণ পর ভালো হয়ে যাবে, একটু অপেক্ষা করি—এমনটা ভেবে অপেক্ষা করা যাবে না।

Comment As:

Comment (0)