ট্যাটু আঁকার আগে জরুরি কিছু টিপস

A+ A- No icon

সেই প্রাচিনকাল থেকেই মানুষের শরীর সাজানোর একটি অংশ হলো ট্যাটু বা উল্কি। যুগ যুগ ধরে শরীরকে ক্যানভাস বানিয়ে আঁকা হচ্ছে নানা নকশা। এদিক দিয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। মূলত ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবেই এর প্রচলন বেশি। আবার কেউ কেউ শখের বশের শরীরে ট্যাটু আঁকিয়ে নেন। তাই ছাত্র-ছাত্রী, গায়ক-গায়িকা, তারকা থেকে থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দেহও আজ উল্কির নানা রঙে রঙিন হয়েছে। তবে শখের বসেই হোক কিংবা ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে হোক- ক্ষতি এড়াতে শরীরে ট্যাটু নেওয়ার আগে

 

কিছু বিষয় জেনে রাখা জরুরি: শরীরের গঠন, কাজের ধরন, তার চাওয়া বা পছন্দ- এসবের উপর সাধরণত নকশা তৈরি করে ট্যাটু আঁকছেন ট্যাটু শিল্পীরা। তবে এই ট্যাটু নেওয়া পাপ নয়, কিন্তু নেওয়ার আগে ভাবার কিছু বিষয় আছে। এক্ষেত্রে জেনে নিন কিছু বিষয়

 

উল্কির মূল্য: বিভিন্ন কারণে উল্কির দামে হেরফের হতে পারে। এর দাম মূলত ডিজাইন, আকার এবং ট্যাটু শিল্পীদের ওপর নির্ভর করে। কাজেই নেওয়ার আগে অবশ্যই এর দাম জানুন। নতুবা অনেক মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

 

ফ্যাশনে ছোট উল্কি: যেকোনো উৎসবে আপনার সাজটা ছোট উল্কি দিয়েই শুরু করতে পারেন। ছোট উল্কিগুলো শুধু সুন্দর এবং ফ্যাশনেবল দেখায় না, একইসঙ্গে আপনাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। প্রথমবারের অভিজ্ঞতা ভালো হলে পরবর্তীতে আরও বড় নিতেই পারেন।

 

সঠিক সময়ে উল্কি নিন: যেকোনো ঋতুতেই আপনি উল্কি নিতে পারেন। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়, যদি গরমের সময় আপনি এটা না নেন। কেননা ঘামে আপনার ট্যাটু নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বকও জ্বালা করতে পারবে। 

 

সস্তার উল্কি পরিহার করুন: খুব কম দামে কখনই কোন ট্যাটু নিবেন না। এগুলো ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

 

উল্কি শিল্পীর বিষয়ে খোঁজখবর নিন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্কি শিল্পী এবং তার কর্মস্থলের ব্যাপারে সব খোঁজখবর রাখুন। তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং আরও কিছুটা সময় নিন। দেখবেন ঠিকই ভালো একজনকে খুঁজে বের করতে পারবেন। 

 

প্রিয়জনের নাম লেখাবেন না: অনেকেই আছেন যারা তাদের ভালোবাসার মানুষের নাম ট্যাটুতে লিখে রাখেন। এটা আসলে ঠিক কাজ নয়। এ কারণে পরবর্তীতে পস্তাতে হয়। ভেবেচিন্তে সুন্দর ডিজাইনের ট্যাটু আঁকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

মুখের প্রতিচ্ছবি এড়িয়ে চলুন: সবসময় মুখের প্রতিচ্ছবি সংক্রান্ত ট্যাটু এড়িয়ে চলুন। এটা অনেক সময় হরর কোন স্টোরির দিকে ইঙ্গিত করে থাকে। এতে করে যে কেউ ভয় পেয়ে যেতে পারে।

 

মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলুন: যদি আপনি ট্যাটু নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে নিয়েই নিন। কেউ কেউ এটা নেওয়া নিয়ে অনেক সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে থাকেন। এতে মনের উপর একটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। 

 

অভিজ্ঞ বন্ধুর সাহায্য নিন: ইতোমধ্যেই শরীরে ট্যাটু এঁকে নিয়েছে এমন বন্ধুর সাহায্য নিন। এতে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আপনার ভীতিও কেটে যাবে। একইসঙ্গে সেরা ট্যাটুই নিতে পারবেন।

 

ট্যাটু শিল্পীর অভিজ্ঞতা পরীক্ষা করুন: ট্যাটু শিল্পীকে আগেই জিজ্ঞাসা করে নিন এর আগে তিনি কোন জায়গায় কাজ করেছেন কিনা কিংবা তার অভিজ্ঞতা কত বছরের। কোন কোন শিল্পী আছেন যারা তাদের কাস্টমারের আগের নানা কাজ দেখায়। এসব দেখে পছন্দ হলে ট্যাটু নিতে সমস্যা নেই। কিন্তু কোন কারণে সন্দেহ হলে অন্য আরেকজনের খোঁজে লেগে যান।

 

ক্রস চেক করুন: কোন ট্যাটু অনেক পছন্দ হলে এবং সে সম্পর্কে আপনার পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে ট্যাটু শিল্পীকে জিজ্ঞাসা করে নিন। এক্ষেত্রে তার পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সেটা করাবেন কিনা।

 

প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন: ট্যাটু শিল্পীকে প্রশ্ন করে ট্যাটু সম্পর্কিত নানা বিষয় জেনে নিন। এমনকি ট্যাটু নেওয়ার পর কিভাবে তার যত্ন নিতে হয় তা জানা না থাকলে তাও জেনে নিন। আজকাল বাজারে এর যত্নে নানা ক্রিম পাওয়া যায় তার কথাও জানুন।

 

ট্যাটুর ভিজুয়াল এইড আনুন: আপনি যদি নিজের ডিজাইন অনুযায়ী ট্যাটু করাতে চান তাহলে এর একটা নকশা কাগজে করে নিয়ে আসুন। সেটা দেখে ট্যাটু শিল্পী আপনার পছন্দের ট্যাটুটি এঁকে দিবে।

 

ব্যথা সহ্য করতে না পারলে একাধিক বসুন: আপনি যদি অর্ধেক ট্যাটু করার পরেই আর ব্যথা সহ্য করতে না পারেন সেক্ষেত্রে সেদিন আর না করে পরের দিনের জন্য রেখে দিন। এভাবে কয়েকবার বসে ট্যাটু শেষ করতে পারেন।

 

ট্যাটুর সঠিক যত্ন নিন: শুধু ট্যাটু নিলেই হবে না, এর সঠিক যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি। এক্ষেত্রে ট্যাটু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

 

সুঁচের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন: ট্যাটু আঁকার সময় পুরানো সূচ বাদ দিয়ে শিল্পীরা নতুন সুঁচ লাগায় কিনা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কেননা পুরানো সুঁচ ত্বকে নানা ইনফেকশন হতে পারে। আবার এর কারণে ত্বকে অ্যালার্জি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই সাবধান হোন।

 

ট্যাটু আঁকার রঙ: ট্যাটু বা উল্কি আঁকার জন্য যে রঙই ব্যবহার করা হোক না কেন সেটা যেন নিঁখুতভাবে চামড়ার বসে যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। রঙটি ভালো না খারাপ তা বোঝার একমাত্র উপায় হচ্ছে ট্যাটু যখন শুকিয়ে যায় তখন।

 

 

যতদিন বেঁচে থাকবেন উল্কিও ততদিন থাকবে সাধারণত বিদ্যুৎচালিত একটি যন্ত্রের সাহায্যে ট্যাটু করা হয়। দেখতে তা অনেকটা ডেনটিস্টের ড্রিল মেশিনের মত যা দিয়ে দাঁতের চিকিৎসা করানো হয়। মেশিনের মাথায় রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি সুঁচ। এই সুঁচটির মাথায় রঙ লাগনো থাকে। প্রতিবার সুঁইটি যখন চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করানো হয় সেই সঙ্গে রঙও ভেতরে প্রবেশ করে। রঙের পরিমাণ এক মিলিলিটারেরও কম। চামড়ার যে স্তরে রঙটি লাগানো হয় তার নাম ডের্মিস। এই স্তরে যে কোন রঙ ঢোকাতে পারলে তা সারাজীবন দেখা যাবে।

 

ক্যান্সার হতে পারে: অনেক কাস্টমারই জানেন না যে রঙ ব্যবহার করা হয় তার সঙ্গে মেশানো হয় মারাত্মক একটি রসায়নিক পদার্থ। এই রসায়নিক পদার্থ চামড়ার একেবারে ভিতর থেকে শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে। আর যেহেতু এই উল্কি সারাজীবন শরীরে থাকবে তাই এই রসায়নিক পর্দাথও সারাজীবন দেহে থেকে যাবে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের অসুখ এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।

 

মুছেও ফেলা যাবে ট্যাটু: নতুন টেকনোলজির মাধ্যমে ট্যাটু ফেইডিং ক্রিম ইউজ করে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে ট্যাটু অপসারণ করা সম্ভব। ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে চাইলে যে কোন সময় মুছে ফেলতে পারেন আপনার পছন্দের ট্যাটু। (তবে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে পার্মানেট ট্যাটু চ্রিম দিয়ে যায় না। সেটার জন্য রেজার ভালো)

Comment As:

Comment (0)