লেবুরঙা পোশাকে আকর্ষনীয় সতেজতা

A+ A- No icon

ফ্যাশন মানেই নকশা আর কারুকাজের কারিশমা নয়। এটাও মানতে হবে, এর বুননে রঙেরও একটি বড় ভূমিকা আছে। মনের আনন্দ বোঝাতে লাল, বিষাদ বোঝাতে কালো, কিংবা স্নিগ্ধতা বোঝাতে সাদার ব্যবহার তো হরহামেশাই হচ্ছে। তাহলে সতেজতার বার্তা দিতে কোন রং বেছে নেবেন? কেউ বলবেন সবুজ, কেউবা সবুজাভ। অনেকে বলবেন, ঠিক তা নয়, এটা আসলে সবুজ আর হলুদের মাঝামাঝি একটা রং। ঠিক করে বলতে গেলে লেবু রং। পাকা লেবুর হলদে সবুজ রংটাই তো সতেজভাব আনতে সবচেয়ে মানানসই হবে, নয় কি?

 

প্রশ্ন উঠতেই পারে, লেবু রংই কেন? উত্তর খুঁজতে যেতে চাই বছর তিন পেছনে, কোনো এক পাহাড়ের বাঁকে।  একদিন পাহাড় দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন বান্দরবানে। সারা দিন হেঁটে ক্লান্ত হয়ে পাহাড়ের বাঁকে এলিয়ে পড়ার দশা। তখন আমাদের দলনেতা বুনো লেবুর ঝোপ থেকে কিছু লেবুপাতা ছিঁড়ে নিয়ে এলেন। হাতে তুলে দিয়ে বললেন, ‘লেবুপাতার গন্ধটা নাও।’ মনে পড়ে, এক নিমিষে কেটে গিয়েছিল সব আলস্য। দলের সবাই চনমনে হয়ে উঠতে একটি লেবুর পাতাই ছিল যথেষ্ট।

দলনেতার কাছেই জানলাম, সারা দিন পাহাড়ে জুমচাষের কাজ করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরা মানুষের ক্লান্তির দাওয়াই এই লেবু আর তার সতেজতা। শত বছরের অভ্যাস এটি, তাই মুহূর্তে নিজেকে চনমনে করে তোলার জন্য লেবুর পাতা না পেলে লেবুর রংটা হলেও নাকি তাঁদের চলে।  জানি না ফ্যাশনবোদ্ধারা পাহাড় থেকেই ফ্যাশনে সতেজভাব ফোটানোর এই রেসিপিটুকু নিয়েছেন কি না। নইলে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সপ্তাহগুলোর টিজোনে কেন বারবার সতেজতার রং হিসেবে ‘লেমনই’ ফিরে ফিরে এসেছে?

এ নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার হুমায়রা খান বললেন, ‘লেবু রঙের নানান শেড নানাভাবে ব্যবহৃত হয়েছে আমাদের ফ্যাশনে। কখনো হালকা সবুজ বলেছি, কখনো কচি কলাপাতার নামে জেনেছি। তবে লেমন বললে লাইম যেমন চলে আসে, কচি কলাপাতার সবুজ রং বললেও তেমনি সবুজঘেঁষা হলুদ রংও চলে আসে। তাই লেবুর শেড মূলত হলদেঘেঁষা রং দিয়েই শুরু হয়। আর বিশ্ব ফ্যাশনে এখন আশির দশকের রেশ চলছে, লেবু রঙের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবহার ছিল ওই দশকে। আশির সুরেই ফিরেছে লেবু রঙের ছোপ।’

 

জানতে চাইলাম, লেবু রঙের সঙ্গে কোন রং মেলানো (ম্যাচিং) যেতে পারে? হুমায়রা খান বলেন, ‘সাধারণত লেবুর সঙ্গে আমরা চাপা সাদা (অফ হোয়াইট) রং ব্যবহার করি। চাপা সাদায় লেমন স্ট্রাইপ, প্রজাপতি মোটিফ বা লেমন অ্যান্ড লাইমের মোটিফ দেখতে দারুণ লাগে। লেবু রং ফোটানো টি–শার্টের সঙ্গে নীল জিনস পরতে পারেন। এর সঙ্গে টিয়া, শকিং পিঙ্কের ব্যবহার পোশাকে সতেজ একটি ভাব এনে দেয়। আবার একই সঙ্গে বেগুনি, কমলা বা টাই–ডাইও ভালো লাগে। লেবুরঙা লম্বা কুর্তি কিনলে সঙ্গে সাদা ঘাগরা বা চেক প্যান্ট পরতে পারেন।’

তবে অফিসের জন্য ‘লেমন লাইম’ রং একটু দৃষ্টিকটু লাগতে পারে। অফিসে পরতে চাইলে লেমন টোনটি একটু কমিয়ে আনলেই ভালো। তার জন্য হালকা গোলাপি, ছাই কিংবা বাদামি রঙের উপস্থিতি বাড়াতে হবে। এটুকু বাদ দিলে সামার ওয়ার্ডরোবে লেবু রং আপনার জন্য সবচেয়ে ট্রেন্ডি রং। একবার পরেই দেখুন। 

Comment As:

Comment (0)