বছরজুড়েই পোশাকে নিরীক্ষা

A+ A- No icon

২০১৯-এর ফ্যাশন ধারায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পোশাক ও শাড়ির স্টাইলে বিশেষ পরিবর্তন। পোশাক ও শাড়িতে বিশেষ কোনো রঙের আধিপত্য ছিল না। তবে প্যাটার্ন, কাপড় ও নকশার পরিবর্তন ছিল চোখে পড়ার মতোই। শাড়ি, ব্লাউজ, কামিজ, দোপাট্টা, শার্ট—সব ধরনের পোশাকেই ছিল ফুলেল ছাপের (ফ্লোরাল প্রিন্ট) জয়জয়কার। পলকা ডটে ফুলেল কাজ।

 

এমব্রয়ডারি, ব্লকপ্রিন্ট বা হাতের কাজের মাধ্যমে পোশাকে ফুটে উঠেছে এই মোটিফ। এরপরেই ছিল ডোরাকাটা বা স্ট্রাইপের ব্যবহার। এদিকে ২০১৮ সাল থেকেই ফুলকলির নকশা করা ওড়না পরার একটা চল দেখা গিয়েছিল। তবে ২০১৯ সালে এসে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ফুলকলি কাপড়ের কামিজ, শাড়ি এবং অন্যান্য পোশাক। 


পোশাকে নানা রঙের ব্যবহার নয় বরং এক রঙের (সলিড কালার) ওপর বিভিন্ন প্যাটার্নের চল দেখা গেছে এই বছর। কামিজটা একরঙা, তার সঙ্গে বাহারি ওড়না পরার ফ্যাশনটা এই বছর বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এদিকে কামিজের দৈর্ঘ্য ছিল পা পর্যন্ত। কাটে ছিল ঘের দেওয়া আনারকলি নকশার প্রাধান্য। পাশাপাশি পোশাকে লেয়ারিংও দেখা গেছে বেশ। জ্যােকট পরা হয়েছে শাড়ির ওপরেও। 


জ্যােকট পরা হয়েছে শাড়ির ওপরেও।  জ্যাকেট, স্কার্ট, বিভিন্ন স্টাইলের প্যান্ট বা ট্রাউজারের নকশায়ও ছিল বৈচিত্র্য। জ্যাকেটকে কেউ ব্লাউজ হিসেবে, কেউ শাড়ির ওপর, আবার কেউ স্কার্ট, ট্রাউজার বা প্যান্টের সঙ্গেও পরেছে। 


এবার শাড়ি পরার স্টাইলে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। দুই প্যাঁচের প্লেট, আঁচল অনেকভাবে ঘুরিয়ে পরা, শাড়ির পাড়ে বড় কুঁচির সেলাই ছিল চোখে পড়ার মতো। এই বছর শাড়ির ফ্যাশনে উল্লেখ করার মতো সংযুক্তি ছিল তৈরি করা বা রেডিমেড শাড়ি। অনেক ফ্যাশন হাউসেই ছিল এই রেডিমেড শাড়ির আয়োজন।ফুলকলি কাপড়ের তৈরি পোশাক বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। 

 

ফুলকলি কাপড়ের তৈরি পোশাক বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাই বলে কিন্তু আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, টাঙ্গাইল সুতি, বেনারসির কদর কমেনি। মানুষ পরিবর্তন পছন্দ করেন, তাই নতুন পোশাকে চায় নতুনত্বের ছোঁয়া। যেমন কামিজ বা শাড়ির সঙ্গে কেডস পরতেও দেখা গেছে। পোশাকে নতুনত্ব আনতে বছরজুড়েই ছিল নানা নিরীক্ষণের ছোঁয়া।

 

তবে তা ঐতিহ্যকে ভুলে নয়। পোশাকের দৈর্ঘ্য ছুঁয়েছে পা, তবে কাটে ছিল ভিন্নতা। পোশাকের দৈর্ঘ্য ছুঁয়েছে পা, তবে কাটে ছিল ভিন্নতা।  আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, গায়ের রং কালো বলে হলুদ ও কালো পরা যাবে না, মোটা বলে স্ট্রাইপ পরা যাবে না, এ বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে আসাটাই ছিল এই বছরের ফ্যাশনের বড় চ্যালেঞ্জ। যে যেমন সেই অনুযায়ী প্রত্যেকের ভেতরেই নিজস্ব একটা স্টাইল তৈরি করার চেষ্টা ছিল।

 

কোনো কিছু অনুসরণ করে নয় বরং নিজের স্টাইলেই স্বাধীনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেছে মেয়েরা। এই বছর ফ্যাশনে এই পরিবর্তন বেশ ভালোভাবেই লক্ষ করা যায়। আর এখান থেকেই যেকোনো বিশেষ একটা স্টাইলই হয়ে যাবে পরের বছরের ফ্যাশন ধারা।

Comment As:

Comment (0)