ঘরেই যেভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবেন

A+ A- No icon

অন্যান্য বছরের সঙ্গে কোনো মিল নেই এবারের পহেলা বৈশাখের। বর্ষবরণের প্রস্তুতি নেই, নেই মঙ্গল শোভাযাত্রার তাড়া। তবু সময়ের নিয়মে দিন যায়, দিন আসে। বছর ঘুরে এসেছে আবারও বাংলা নববর্ষ। উৎসবের এই দিনটি ঘরেই কাটাতে হবে নিজের ও পরিবারের সবার সুস্থতার জন্য। যদিও এখন বিমর্ষ সময়, উৎসব করার নয়। তাই বলে কি বছর শুরুর দিনটিও মন খারাপ করে বসে থাকবেন?


সকালবেলায় মাটির সানকিতে পান্তা ভাত আর কয়েক পদের ভর্তার আয়োজন রাখতে পারেন। তাতে দোষের কিছু নেই। ভর্তা কিংবা পান্তা ভাত আহামরি কোনো খাবার নয় যে, এমন দিনে খাওয়া ঠিক হবে না। বরং বাসার শিশুরাও বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে। আবার ঘরে বন্দি থেকে বৈশাখ পালনের মন খারাপ কিছুটা হলেও কেটে যাবে। উৎসব নেই, তাই নতুন পোশাকও নেই। কিন্তু গত বছরের কেনা শাড়ি-পাঞ্জাবি নিশ্চয়ই আছে? সেগুলোই পরে ঘরে বসে হালকা সাজতেও পারেন। বাইরের মানুষেরা না দেখুক, ঘরের মানুষই না হয় একটু পরিপাটিভাবে দেখুক আপনাকে। এদিকে বন্দি থাকতে থাকতে যে নিজের প্রতি উদাসীনতা চলে এসেছে, তাও কেটে যাবে খানিকটা। সাজলে মন ভালো হয়, সেকথা কে না জানে!


বাসায় থেকে নিশ্চয়ই নানারকম রান্নার চর্চা করছেন। আজ তবে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী কিছু তৈরি করে দিন বাসার সবাইকে। মুরালি, মুড়কি, নাড়ু, মোয়া, নিমকি, জিলাপি ইত্যাদি তৈরি করতে পারেন। তাতে কয়েকদিনের বিকেলের নাস্তার চিন্তাটাও মিটে যাবে। আবার সবার পাতে স্বাস্থ্যকর খাবারও উঠবে। সম্ভব হলে বাসার অন্য সদস্যদেরও বলুন এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে। মিলেমিশে কাজ করলে হৃদ্যতা বাড়বে, কাজও দ্রুত শেষ হবে। যেহেতু পরিবারের সবাই একসঙ্গে আছেন, এই সুযোগটা কাজে লাগান। রাতের দিকে সবাই গোল হয়ে বসে বাংলা গান, কবিতা, অভিনয়- যে যা পারে, তাই করে দেখান। তাতে নিজের ভাষা আর সংস্কৃতির চর্চা হবে, সময়টাও দারুণ কাটবে। ছোটদের শোনাতে পারেন বাংলা বছর কেমন করে এলো সেই ইতিহাস। নববর্ষ নিয়ে ছবি আঁকতেও দিতে পারেন। এতে তাদের মনোজগত আরও বিস্তৃত হবে।


দুশ্চিন্তা থাকবেই। তবে সব সময় বিষণ্ন থাকাটাও কাজের কথা নয়। বরং ভয়কে জয় করে বেঁচে থাকতে হবে। তাই ঘোরাঘুরি না হোক, উৎসব না হোক, অন্তত সবাই মিলে ভালো একটি দিন কাটুক।

Comment As:

Comment (0)