যা খেলে প্রতিরোধ হবে পিত্তথলির পাথর

A+ A- No icon

পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যায় পুরুষদের তুলনায় নারীরাই বেশি পড়েন। জীবনের নানা পর্যায়ে, এমনকি গর্ভাবস্থাতেও, হরমোনের যে ওঠানামা সে কারণেই তাদের গলব্লাডারে পাথর জমার প্রবণতা বাড়ে। গলব্লাডারে পাথর হলে অপারেশন ছাড়া যেমন পথ নেই। অপারেশন পরবর্তী জীবনেও খাবারে একটু বিধিনিষেধ থাকে। এই রোগ প্রতিরোধে কী খাবেন আর কী খাবেন না, তা দেখে নিন।

 

যে খাবার খাবেন

লো–ক্যালোরির সুষম খাবার খান। দরকার হলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। খাবারে যেন বৈচিত্র থাকে। প্রতিদিন এক ধরনের খাবার না খেয়ে সব রকম খাবার মিলিয়ে মিশিয়ে খান। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়। যেমন, শাক, সবজি, ফল, ব্রাউন রাইস, আটার রুটি, ব্রাউন ব্রেড, খোসাসহ ডাল ইত্যাদি।

 

হজম করতে পারলে দিনে ২–৩ সার্ভিং লো–ফ্যাট দুধ বা দুধের তৈরি খাবার খান। এক সার্ভিং–এর মানে হলো ২৫০ মিলি দুধ বা এই পরিমাণ দুধে বানানো ছানা, ৫০ গ্রাম চিজ, ১৭৫ মিলিলিটার টকদই। টকদইয়ে ২ শতাংশের কম ফ্যাট থাকতে হবে। লোয়ার ফ্যাট চিজে দুধের প্রোটিন যেন ২০ শতাংশের কম থাকে। ক্রিম না খাওয়াই ভাল।

দিনে ২–৩ বার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। একবার খেলে, ৭৫ গ্রাম মাছ–মাংস বা চিকেন, দুটো ডিম, ৩/৪ কাপ বিনস, শুকনো মটরশুঁটি বা মুসুর ডাল, ২ টেবিল চামচ পি–নাট বাটার, সিকি কাপ বাদাম।

 

মাংস বা চিকেনের যে অংশে চর্বি কম থাকে সেই অংশ খান। চিকেনের চামড়া ছাড়িয়ে নেবেন অবশ্যই। মাঝেমধ্যে নিরামিষ প্রোটিনও খাবেন। প্রতিদিন কিছু না কিছু উপকারী ফ্যাট খান। বাদাম, মাছের তেল, অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল তো খাবেনই, ঘি–মাখন বা অন্য তেলও পুরোপুরি বাদ দেয়ার দরকার নেই। কারণ ফ্যাট না খেলে পাথর হয় না, এমন নয়। উপকারী ফ্যাট না খেলে বরং নানা রকম সমস্যা হতে পারে। তবে তা যেন মাত্রা না ছাড়ায়।

 

দিনে ২–৩ টেবিল চামচ বা ৩০–৪৫ মিলি–র বেশি তেল খাবেন না। সপ্তাহে ৩–৪ বার ২৫ গ্রামের মতো লবণ ছাড়া বাদাম খাবেন। চিনির কোনো উপকার নেই, বরং আছে অপকার। কাজেই সব রকম মিষ্টি স্বাদের খাবার খাওয়া বন্ধ করুন। ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার বা পানীয় কম করে খান। দিনে ৩ বার ২৫০ মিলিলিটার কফি খেতে পারেন। গর্ভাবস্থায় তা খাবেন দুই কাপ। চকলেট বা নরম পানীয়র ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন। চা একটু বেশি খাওয়া যায়। তবে তা-ও যেন মাত্রা না ছাড়ায়।

Comment As:

Comment (0)