ক্লান্তিভাব দেখা দেওয়ার কারণ

A+ A- No icon

শুধুমাত্র পরিশ্রমের কারণে শারীরিক ক্লান্তিভাব দেখা দেয় না, তার সঙ্গে থাকে লুকায়িত বেশ কয়েকটি কারণ। টায়ার্ডনেস, ফ্যাটিগ বা এই ক্লান্তিভাবকে শারীরিক ও মানসিক শক্তির ঘাটতি কিংবা কাজ করার স্পৃহার ঘাটতি বলে অভিহিত করা যায়। ক্লান্তিজনিত সমস্যাকে যদিও আমরা শারীরিক হিসেবে ধরে থাকি, ক্লান্তি মূলত শারীরিক ও মানসিক উভয়ের সংমিশ্রণে দেখা দেয়। এছাড়া বড় ধরণের শারীরিক সমস্যা থেকেও ক্লান্তিভাব দেখা দেয়। রক্তস্বল্পতা, ডায়বেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা ও হৃদরোগের ফলে খুব অল্পতে ও সহজেই ক্লান্তিভাব দেখা দেয়। তবে সাধারণত ক্লান্তিভাব দেখা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কমন কারণ কাজ করে। তার কয়েকটি হলো-


পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব
ক্লান্তিভাব দেখা দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ঘুমের অভাব। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। নির্দিষ্ট এই সময়ের চাইতে ঘুম কম হলে খুব স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর চাপ পড়ে। কম ঘুমানোর এই সমস্যাটি থেকেই পরবর্তীতে বড় ধরণের শারীরিক সমস্যা ও ক্রমাগত ক্লান্তি বোধ হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। এছাড়া ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র জন্যেও অনেকে ক্লান্ত বোধ করে থাকে।


খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম
সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীরকে শুধু সুস্থ নয়, এনার্জিতে ভরপুর রাখতেও কাজ করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জাংকফুড খাওয়া হয় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে। যা খুব সহজেই রক্তে ইনস্যুলিন ও ফ্যাটের মাত্রা বৃদ্ধি করে। অথচ শরীর তার প্রয়োজনীয় শক্তি একেবারেই পায় না এইসকল খাবার থেকে। যে কারণে সবসময় স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়।


রক্তস্বল্পতা
অ্যানিমিয়া কিংবা রক্তস্বল্পতার সমস্যায় রোগীর শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। পর্যাপ্ত আয়রনের অভাবে রক্তের লোহিত রক্ত কণিকা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অঙিজেন ভালোভাবে পৌঁছে দিতে পারে না। পর্যাপ্ত অঙিজেনের অভাবে হৃদযন্ত্র অনেক বেশি পাম্প করে, যার ফলে অল্প কিছুক্ষণ কাজ করলে কিংবা হাঁটলেও ক্লান্তিভাব দেখা দেয়।


ক্যাফেইন গ্রহণ
অবশ্যই ক্যাফেইন এনার্জি বুস্টার হিসেবে খুব চমৎকার কাজ করে। তবে ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় তথা চা কিংবা কফি পানের সঙ্গে চিনিও গ্রহণ করা হয়। এই চিনি শরীরের এনার্জি ওঠানামার জন্য দায়ী। ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করা হয় তবে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে ক্লান্তিভাব দেখা দিবেই এবং সময় গড়ানোর সঙ্গে তার মাত্রা বাড়তে থাকবে অনেক বেশি।


পানিস্বল্পতা
প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পানের প্রয়োজনীয়তা শুধুমাত্র শরীরে পানির অভাব মেটানোর জন্যেই নয়, শরীরে এনার্জি প্রদানের জন্যেও। পানি শরীরে পুষ্টি সরবরাহ ও রক্ত চলাচলের গতিকে স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। যার ফলে হৃদযন্ত্রে অঙিজেন খুব সহজেই পাম্প হয় ও মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। এতে করে সহজে ক্লান্তিভাব দেখা দেয় না। এছাড়াও বয়সজনিত কারণেও ক্লান্তিভাব দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে নিজেকে রুটিনের মাঝে ধরে রাখা ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের মাঝে নিয়মিত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

Comment As:

Comment (0)