হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার কিছু কৌশল

A+ A- No icon

হৃদরোগের হার প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সাথে বাড়ছে হৃদরোগে মৃত্যুর হার। এ কারণেই সতর্ক করা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে জীবনযাপনের ধরণে পরিবর্তন আনতে। বেশি করে সবজি ও ফল খাওয়া, ফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করা, ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা, দেরী করে না ঘুমানোর মতো বিষয়গুলো কমবেশি সকলের জানা। তবে এটা কি জানা আছে যে পোষা প্রাণীটিও অবদান রাখতে পারে আপনার হৃদযন্ত্রের সুস্থতায়? কিংবা নিয়মিত দাঁত মাজলেও সম্ভব হবে হৃদরোগকে দূরে রাখা! প্রতিদিনের জীবনের এমনই কিছু অপ্রত্যাশিত অভ্যাস ও কাজই আপনার হৃদযন্ত্রকে রাখতে পারে প্রাণচঞ্চল।


জোরে হাসুন
উচ্চশব্দে হাসি মনকে ভালো রাখার সাথে হৃদযন্ত্রকেও সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। পরীক্ষার তথ্যমতে, হাসি স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণের মাত্রা কমায়, আর্টারির প্রদাহ কমাতে কাজ করে এবং হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (HDL) তথা ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।


ডার্ক চকলেট খান
যেখানে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে যদি চকলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় তাহলে অনেকেই অবাক হবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খেয়াল করুন, বলা হচ্ছে ডার্ক চকলেটের কথা, সাধারণ চকলেট নয়। ডার্ক চকলেটের ফ্ল্যাভনয়েড হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। একেবারেই পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন পিওর ডার্ক চকলেট খাওয়া হৃদ স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।


প্রাণী পালন শুরু করুন
পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও তাদের কাছ থেকে শর্তহীন ভালোবাসা মন ও হৃদযন্ত্রের উপর কতখানি উপকারী ভূমিকা রাখে সেটা সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ এর গবেষণার তথ্যমতে, পোষা প্রাণী একইসাথে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। এতে করে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার কমে যায় অন্তত ২২ শতাংশ পর্যন্ত।


ব্যবহার করুন সিঁড়ি
হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখতে শরীরচর্চা অপরিহার্য। সেখানে একেবারেই সহজ যে শরীরচর্চাটা করা যাবে বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই যেটা করা থেকে কেন নিজেকে বিরত রাখবেন? তাই প্রতিবার লিফটের পরিবর্তে সিড়ি ব্যবহার করুন। তবে পাঁচ তলার উপরে সিঁড়ি ব্যবহার করা উচিত নয়, এতে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ তৈরি হয়।


নিজের পছন্দের স্থান নির্বাচন করুন
ভাবুন তো, কোন স্থানটি আপনার খুব পছন্দের! নিজের ঘর, বারান্দা, বাসার ছাদ নাকি এলাকার পার্কে বসার বেঞ্চটি। অথবা পরিচিত কোন কফিশপ! যেখানে থাকলে নিজেকে খুব তরতাজা, হালকা মনে হয়। এমন স্থান নির্বাচন করুন। সেটা হতে পারে একটি কিংবা কয়েকটি। এই জায়গাগুলোয় প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই-তিনবার যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে মন প্রফুল্ল থাকবে সাথে সুস্থ থাকবে হৃদযন্ত্র।


প্রতিদিন দুইবেলা দাঁত মাজুন
দাঁতের সাথে হৃদযন্ত্রের সুস্থতার কী সম্পর্ক? দাঁত যদি চকচকে থাকে তবে সুস্থ থাকবে হৃদযন্ত্রও। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, গাম ডিজিজের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া কিছু ক্ষেত্রে হৃদরোগ তৈরির জন্যেও দায়ী থাকে। যদিও এক্ষেত্রে আরও গবেষণা ও পরীক্ষা করা হচ্ছে, তবে দাঁতের সুস্থতাও নিশ্চয় জরুরি।

Comment As:

Comment (0)