আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস

A+ A- No icon

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস ২৬শে মার্চের এই দিনটিতে রক্তখ্যক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল সেই গৌরব ও অংহকারের দিন ২৭শে মার্চ। বিশ্বের বুকে পতাকা ওড়ানোর দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালিবের হয়১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। এই দিনে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার যে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল তার দীর্ঘ ১৯০বছর পর বাঙালি জাতি সেই স্বাধীনতা অর্জন করে। পাকিস্তানি রা যখন বাঙালিদের নতুন করে শোষন ওপরাধীনতার  শৃঙ্খলে বেঁধে রাখতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, ঠিক তখনই শতাদ্বীর মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অভ্যদ্বয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তির মহামন্ত্রে উজ্জীবিত করেধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে গেছেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে।


অপারেশন সার্চলাইট,২৫শে মার্চ ১৯৭১,মধ্য রাতে পাকিস্তানিরা ঘুমন্ত নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশীদের স্বাধীকার আন্দোলন, এমনকি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের আইনসঙ্গত অধিকার কেওর রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শুরু করে ছিল সারাদেশে গনহত্যা। সেই রাতে হানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, রোকেয়াহল,শিক্ষকদের বাসা, পিলখানার ইপিআরের সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে একযোগে হত্যাযঞ্জ চালিয়ে হত্যা করে অগনিত নিরস্ত্র দেশপ্রেমিক ও দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। পাকহানাদার বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একাধিক গনকবর খুড়ে সেখানে শত শত লাশ মাটি চাপা দেয়া হয় এবং তার ওপর বুলডোজার চালায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে সারারাত ধরে হাজার হাজার মানুষের লাশ মাটি চাপা দেয়া হয়। পুরনো ঢাকার বুরিগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়া হয়, নিহতদের লাশ। ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্ৰেপ্তার হন,গ্ৰেপ্তার হওয়ার একটু আগে ২৫শে মার্চ রাত১২টারপর তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে
স্বাক্ষর করেন যা চট্টগ্ৰামে অবস্থিত ইপিআরের ট্রান্সমিটারে করে প্রচার করা রং জন্য পাঠানো হয়।


ঘোষণা টি নীচে উল্লেখ করা হলো______
অনুবাদ:“””এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।
আমি বাঙলাদেশের মানুষকে আহ্বানজানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন আপনাদের সর্বোস্ব দিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষপর্যন্ত
প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উতখাৎ করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক ””___


২৬শে মার্চ বেলাল মোহাম্মদ,আবু কাসেম সহচট্রগ্ৰাম বেতার কেন্দ্রের কয়েক জন কর্মকর্তা ও স্থানিয় আওয়ামী লীগ নেতা এম এহান্নান প্রথম শেখ মুজিব এর স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রটি মাইকিং করে প্রচার করেন,পরে ২৭শে মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান চট্রগ্ৰামের বালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে গরিব দুঃখী মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য। তিনিজেল জুলুম-হুলিয়া,শত যন্ত্রনা, দুঃখকষ্ট বেদনা কে সহ্য করেও বাঙলার জনগনের জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়েছেন । বাংলা, বাঙালি,বঙ্গবন্ধু একবৃত্তে তিনটি ফূল হিসাবে মনে করে। এই কারনে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধু চিরদিন অম্লান থাকবে এবং বাঙালি জাতির কাছে বঙ্গবন্ধু চিরদিন অম্লান থাকবে।


বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতার ঘোষণার ভিত্তিতে ই ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়ে থাকে। এখানে উল্লেখ্য যে,এর আগে ৭ই মার্চে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু এবারের সংগ্ৰাম আমাদের মু্ক্তির সংগ্ৰাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ঘোষনা দিয়ে গোটা জাতিকে স্বাধীনতা র লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেন। আজ ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস। লাশের ধংসস্তপ থেকে রক্ত রাঙ্গা সূর্যের পূর্বাভাষের দিন আজ। সংশ্লিষ্ট মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হওয়ার এটি আমাদের জাতীয় দিবসও বটে।

Comment As:

Comment (0)