আলোচনায় মুশফিক

A+ A- No icon

নিউজিল্যান্ডের মাটি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে এখনো অপরাজেয়! ভীতিকর এক নাম। ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারের তিক্ত স্বাদ দিতে পারেনি টাইগাররা। তাই বলে দক্ষিণের ‘দুয়ার’ পরিচিত দেশটির মাটিতে জয়োৎসবে যে মাতেনি টাইগাররা, তা নয়। চার বছর আগে, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়টি কোয়ার্টার ফাইনালের পথ সুগম করে দিয়েছিল। হাসি বলতে  ওই টুকুই! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০ মিলিয়ে যে ২২টি ম্যাচ খেলেছে, সেসবে হারের বিপরীত শব্দ নেই। তারপরও আফসোসের একটি ম্যাচ আছে। সেটি আবার ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্র্ভে। দুই বছর আগে, চারদিন পর্যন্ত চালকের আসনে থেকেও ব্যাটসম্যানদের সামান্য ভুলে হেরেছিল টেস্টটি। সেই ওয়েলিংটনেই কাল ভোরে বাংলাদেশ তিন টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টি খেলতে নামছে। তবে হ্যামিল্টনের মতো এখানেও দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গতকাল মিডিয়ার মুখোমুখিতে তেমনই জানিয়েছেন কোচ স্টিভ রোডস। হ্যামিল্টনে সিরিজের প্রথম টেস্টে তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরির পরও হেরেছিল ইনিংস ও ৫২ রানে। 

২০০১ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এখন পর্যন্ত ৮টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। চারটিতেই ইনিংস হার। ওয়েলিংটনে এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলেছে তিনটি। ২০০১ সালে ইনিংস ও ৭৪ রান, ২০০৮ সালে ইনিংস ও ১৩৭ রানে এবং ২০১৭ সালে হেরেছিল ৭ উইকেটে। দুই বছর আগের টেস্টটি আবার টাইগারদের জন্য বিশেষ কিছু। ২১৭ রানের ডাবল সেঞ্চুরি খেলেছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক। পঞ্চম উইকেট জুটিতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সঙ্গে ৩৫৯ রানের মহাকাব্যিক জুটি গড়েছিলেন তিনি। ওই জুটিই স্বপ্ন দেখিয়েছিল নতুন কিছুর। আশা জাগিয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হারের তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল টাইগাররা।

কাকতালীয় বিষয়, দেশসেরা দুই ব্যাটসম্যানকে এবারও পাচ্ছে না টাইগাররা। আঙ্গুলের ইনজুরিতে নিউজিল্যান্ডই সফরে আসেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। যদিও ক্রাইস্টচার্চে খেলার সুক্ষœ একটি সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রাইস্টচার্চে সম্ভাবনা রয়েছে সাবেক অধিনায়ক মুশফিকেরও। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছেন মুশফিক। কিন্তু আঙ্গুলের ব্যথা, পাঁজরের ব্যথা ও কব্জির ব্যথায় শেষ মুহূর্তে হ্যামিল্টন টেস্ট থেকে ছিটকে পড়েন। সুস্থ হয়ে দলের প্রতিদিন হালকা অনুশীলনও করছেন। কিন্তু পাঁচদিনের টেস্ট খেলার মতো সুস্থ হয়ে উঠেননি। তাই তাকে ওয়েলিংটন টেস্টের রিজার্ভ বেঞ্চেই বসে সময় পার করতে হবে।            

 

ডানেডিনে তৃতীয় ওয়ানডেতে আঙ্গুলে ব্যথা পান। এরপর আর মাঠে নামেননি।  গতকাল নেটে টেনিস ও রাবার বল এবং ক্রিকেট বলে ব্যাটিং করেন দুই দুটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো মুশফিক। ক্রিকেট বলে ব্যাট করার সময় আঙ্গুলে ব্যথা অনুভব করেছেন মুশফিক বলেন কোচ স্টিভ রোডস, ‘ফিট হতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন মুশফিক। গতকাল অনুশীলনে টেনিস বল, রাবার বল ও ক্রিকেট বলে ব্যাটিং করেছেন। ক্রিকেট বল খেলার সময় লিগামেন্টে ব্যথা অনুভব করেন। যার ফলে দ্বিতীয় টেস্টে তার খেলা ভীষণ সংশয়পূর্ণ। খেলতে হলে রাতারাতি শতভাগ সুস্থ হতে হবে। তবে আমরা সবাই মুশফিকের সুস্থতার অপেক্ষায় আছি।’ ওয়েলিংটন মিস করলেও ক্রাইস্টচার্চে খেলবেন সাবেক অধিনায়ক, এমন সুসংবাদই জানিয়েছেন কোচ, ‘খুশির খবর হচ্ছে তৃতীয় টেস্টে খেলার পথেই রয়েছে সে। আশা করি আর কোনো সমস্যা হবে না।’ সিরিজের প্রথম টেস্টে দল হেরেছে। কিন্তু দারুণ ব্যাটিং করেছেন বাঁ হাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে বেরোয় প্রত্যয়ী ৭৪ রান। সেঞ্চুরি করেছেন ড্যাসিং ব্যাটসম্যান সৌম্য। ক্যারিয়ারের অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংসটি ছিল ১৪৯ রানের এবং হ্যামিল্টনে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৬ রানের টেস্ট ইনিংস খেলেন মাহমুদুল্লাহ। প্রথম টেস্টে হালকা ব্যথা পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা বাঁধা হবে না ওয়েলিংটনে। সেই কথাই বলেছেন কোচ রোডস. ‘তামিম হালকা অনুশীলন করেছেন। সামান্য ব্যথা থাকলেও ভালো অবস্থায় আছে সে। আগের ম্যাচে অনেক ওভার ব্যাট করে ২০০ রান করেছেন।’  হালকা ইনজ্যুরি থাকলেও ওয়েলিংটনে তামিম খেলবেন। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না মুশফিককে। তাই মিডল অর্ডারের মূল ভরসা অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। অবশ্য রান করতে হবে সৌম্য. লিটন দাস, মোহাম্মদ মিথুন ও ওপেনার সাদমানকে। তাহলেই ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখা যাবে।

Comment As:

Comment (0)