সর্বশেষ:
‘গান্ধী পরিবারের বাইরে কেউ সভাপতি হলে কংগ্রেস ভেঙে যাবে’ : নটবর সিং ইসরায়েলে ৯০০০ বছর আগের ‘রহস্যময়’ শহরের সন্ধান ব্লগার নয়, নতুন নায়িকার সঙ্গে প্রেম শাহরুখপুত্রের! সারা দেশে ত্রাণের জন্য বানভাসি মানুষের আহাজারি : রিজভী ঈদে ওয়ালটনের ‘এক্সচেঞ্জ অফার’

স্বপ্নের ফাইনালে ইংল্যান্ড

A+A- No icon

আগের দিন বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চমক উপহার দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে চমক উপহার দিল ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের জয়টা যে অপ্রত্যাশিত ছিল ব্যাপারটা এমন নয়। চমকটা আসলে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানে। ইংল্যান্ডের সামনে যে দাঁড়াতেই পারেনি সেমি-ফাইনালে এর আগে কখনো পরাজয় বরণ না করা অস্ট্রেলিয়া। অ্যারোন ফিঞ্চের দলকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে লর্ডসের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইয়ন মরগানের দল। তার মানে রোববারের আলোক ঝলমলে ফাইনালের মঞ্চে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকেই দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব।

 

বার্মিংহামের এজবাস্টনে স্বাগতিকদের ফাইনালের পথ প্রশস্থ করেন ইংলিশ বোলাররা। পরে টপ অর্ডারদের দৃড়তায় অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২২৪ রানের লক্ষ্য মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১০৭ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ২৭ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো দলটি। ১৯৯২ বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের পর মাঝে পেরিয়ে গেছে সাত-সাতটি আসর। প্রতিটি আসরই তারা শেষ করেছে একরাশ হতাশা নিয়ে। ২০১৫ বিশ্বকাপের তো বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্ব থেকে। এরপর ওয়ানডে ক্রিকেটের সংজ্ঞাটাই পাল্টে দেয় ইয়ন মরগানের নেতৃত্বাধীন দলটি। বিশাল বিশাল সব রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে আনা আর দলীয় সংগ্রহের সব রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়েই কেটেছে তাদের মাঝের চারটি বছর। এবারের বিশ্বকাপে তাই তারাই ছিল সবচেয়ে ফেভারিট। সঙ্গে স্বাগতিক তকমা যুক্ত হওয়ায় মরগান বাহিনীর হাতেই এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি দেখে আসছিলেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতাপের সঙ্গেই আসরের ফাইনালে জায়গা করে নিলো দলটি।

 

আগের দিন ওল্ড ট্রাফোর্ডে ভারতের ইনিংসের শুরুটাই যেন কাল মঞ্চস্থ হয়েছে এজবাস্টনে। ১৪ রানের মধ্যে নেই অস্ট্রেলিয়ার ৩ উইকেট! ইংল্যান্ড বোলারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন কেবল স্টিভেন স্মিথ। ১০৩ রানের জুটিতে তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন অ্যালেক্স কারি। দ্বিতীয় ওভারে ব্যাটে নেমে ৪৮তম ওভারে রান আউট হওয়ার আগে ৮৫ রান করেন স্মিথ। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে তাকে দেখতে হয়েছে ছয় সতীর্থের সাজঘরে ফিরে যাওয়ার দৃশ্য। তার ব্যাটেই দুইশ পার করে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ছোট পুঁজিতে অজি বোলারদের কোনো সুযোগ দেননি জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। টানা তৃতীয়বারের মত তাদের ওপেনিং জুটি থেকে আসে একশোর্ধো রান। ৯৩ বলে শতক পেরিয়ে ১৮তম ওভারে দলীয় ১২৪ রানে বেয়ারস্টোর বিদায়ে বিচ্ছিন্ন হয় এই জুটি।

 

বেয়ারস্টোকে তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ (২৭) উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েন মিচেল স্টার্ক, পেরিয়ে যান স্বদেশী গ্লেন ম্যাকগ্রাকে। দলীয় ১৪৭ রানে রয়কে ফিরতে হয় আম্পায়ারের ভুলে। খালি চোখেই দেখা যাচ্ছিল প্যাট কামিন্সের বল লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কারি-কামিন্সের জোরালে আবেদনে আগুল তুলে দেন শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। রিভিউয়ের সুযোগ ছিল না। তাই ফুঁসতে ফুঁসতে মাঠ ছাড়েন ৬৫ বলে ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৫ রান করা রয়। বাকি সময়ে অবিচ্ছিন্ন ৭৯ রানের জুটিতে দলকে ফাইনালে তুলে মাঠ ছাড়েন জো রুট (৪৯) ও দলপতি মরগান (৪৫)। 


এর আগে দলের ফাইনালে ওঠার পালে জোর হাওয়া লাগান ইংলিশ বোলাররা। নতুন বলে আগুন ঝরান জোফরা আর্চার এবং ক্রিস ওকস। দুজনে তুলে নেন ৫ উইকেট। মাঝের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট নিয়ে দারুণ অবদান রেখেছেন আদিল রশিদও। নতুন বলে আর্চার-ওকসদের দুর্দান্ত গতি আর লাইন লেন্থের সঙ্গে ছোট ছোট সুইংয়ের সামনে এলোমেলে হয়ে যায় টস জয়ী অজি টপ অর্ডার। কিছু বুঝে উঠার আগেই দুই ওপেনারের সঙ্গে পিটার হ্যান্ডসকম্বকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুটা করেন আর্চার, ওয়ার্নারকে উইকেটের পিছনে ক্যাচ বানিয়ে। ফিঞ্চ ও হ্যান্ডসকম্বকে ফেরান ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া ওকস।

 

তবে অস্ট্রেলিয়াও যে সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নয় তার প্রমাণ মেলে দ্রুতই। কারিকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্মিথ। আর্চারের বাউন্সারে ফেঁটে যাওয়া থুতনি নিয়ে দারুণভাবে ব্যাট করেন কারি। আস্থার সঙ্গে খেলছিলেন স্মিথও। ইংল্যান্ড অধিনায়কের কপালে তখন ভাজ পড়তে শুরু করেছে। এমন সময় ৫ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে নিয়ে সেই ভাজ দূর করেন রশিদ। মিড উইকেটে ক্যাচ দেন (৪৬)। মার্কাস স্টয়নিস এসে দ্বিতীয় বলেই পড়েন এলবিডবিøউয়ের ফাঁদে। গেøন ম্যাক্সওয়েল এসে ভালো কিছুর আভাস দিয়েও আউট হন ২৩ বলে ২২ রান করে। প্যাট কামিন্সও এসে দাঁড়াতে পারেননি। এরপর নিজের ব্যাটিং সত্ত¡াকে বের করে আনেন স্টার্ক। স্মিথের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে তার ফিফটি জুটিতে তো আড়াইশ রানেরও আভাস দিচ্ছিল অজিরা। কিন্তু টানা দুই বলে দুজনই ফিরে গেলে সেই আশা শেষ হয়। এক ওভার হাতে রেখে ২২৩ রানে গুটিয়ে যায় ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ২০ রানে ৩ উইকেট নেন ওকস, রশিদ ৩ উইকেট নেন ৫৪ রানে। আর্চার ৩২ রানে নেন ২ উইকেট।

Comment As:

Comment (0)