উত্তাপের অপেক্ষায় জাতীয় লিগ

A+ A- No icon

কেউ বলছেন রুজি-রুটি, কারো আবার মনের খোরাক- এই দুইয়ের মিশ্রণেই যে স্বাশ্বস ক্রিকেট তা বাংলাদেশে ধ্রুবসত্য। আয়ারল্যান্ড সফর থেকে বিশ্বকাপ, সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা সফরের ব্যস্ত সূচির পরও তাই ঘরমুখো হয়েছেন খুব কম ক্রিকেটারই। কারণ একটিই, জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলার বাসনা। সেই উত্তেজনায় কিছুটা ছেদ পড়েছিল বিসিবির বাধ্যতামূলক বিপ টেস্ট। তবে সেটিও শিথিল করায় এবার রোমাঞ্চ ছড়ানোর ইঙ্গিত ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদার এই আসরে। দেশের চারটি ভেন্যুতে একযোগে শুরু হচ্ছে এনসিএল।

 

এমনিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জাতীয় লিগ খেলতে অনীহা থাকলেও এবার প্রেক্ষপট ভিন্ন। সামনেই বহুল আকাক্সিক্ষত ভারত সফর। তাইতো প্রস্তুতির মহামঞ্চ হিসেবে এই আসরের দিকেই তীর্থের কাকের মতোই তাকিয়ে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিমের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। তবে গোটা আসর না খেলতে পারলেও যে দুই লেগ খেলবেন তার রোমাঞ্চ নিতেই মুখিয়ে আছেন প্রায় সবাই। তাদের সঙ্গে প্রতিবারের মতো আসর আলোকিত করা আব্দুর রাজ্জাক, তুষার ইমরান, মোহাম্মদ আশরাফুলরা তো আছেনই। বহুদিন পর তাই উত্তাপ ছড়ানো একটি ঘরোয়া আসরের অপেক্ষা করতেই পারে ক্রিকেট রোমান্টিকরা।

 

এবার চার বছর পর মিরপুরে ফিরছে জাতীয় লিগের খেলা। উদ্বোধনী দিনে এই মাঠেই মুখোমুখি হবে তামিম ও মাহমুদউল্লাহর দল। তামিমে আগ্রহটাই যেন সবচেয়ে বেশি। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর থেকে মাঠের বাইরে থাকা তামিম বিসিবির সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমামের রুমে বসে আলাপচারিতায় বলছিলেন, ‘অনেক দিন ধরেই তো নেটে, সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং করছি। এবার মাঠে নামার পালা।’ একই অবস্থা মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিমদেরও। তামিমের ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলবেন ঢাকা মেট্রোর হয়ে। দুজন ঢাকা লিগে সবশেষ খেলেছেন ২০১৫ সালে। তামিম ৪টি ও মাহমুদউল্লাহ ৫টি ম্যাচ খেলেছিলেন। সাকিব আল হাসানও ওই বছর জাতীয় লিগে খুলনার হয়ে এক ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন। মুশফিকুর রহিম খেলবেন রাজশাহী বিভাগের হয়ে। নিয়মিত অনুশীলন করে আসা মুশফিকও মাঠে ফিরতে মুখিয়ে। 

 

এছাড়া সাব্বির রহমান রাজশাহীর হয়ে, মোসাদ্দেক হোসেন বরিশাল বিভাগের হয়ে মাঠে নামবেন। পেসারদের মধ্যে রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান খুলনায় খেলবেন। রুবেলের দুই রাউন্ডে খেলার কথা থাকলেও শোনা যাচ্ছে, মুস্তাফিজ এক রাউন্ডের বেশি খেলতে রাজি নন। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করায় লিগের মান বাড়বে, এমনটাই দাবি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীর, ‘টুর্নামেন্টের জৌলুস বাড়ে তখনই, যখন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা অংশ নেন। এবার সেরকমই হতে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য। জাতীয় দলের কমিটমেন্টের সঙ্গে জাতীয় লিগের কমিটমেন্ট কনফ্লিক্ট হলে অনেক সময় হয়তো তারা খেলতে পারে না। তারপরও এবার সুযোগ থাকায় আমরা তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি।’

 

এদিকে, টানা আট বছর ধরে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসা ওয়ালটনকে আরো তিন বছরের জন্য সঙ্গী হিসেবে পেল জাতীয় ক্রিকেট লিগ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকালই এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। দেশের ১০টি ভেন্যুতে শুরু হবে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্রধান আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল)। প্রথম স্তরে শিরোপাধারী রাজশাহীর সঙ্গে আছে রংপুর, খুলনা ও দ্বিতীয় স্তর থেকে উঠে আসা ঢাকা বিভাগ। দ্বিতীয় স্তরে ঢাকা মেট্রো, চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গী প্রথম স্তর থেকে নেমে যাওয়া বরিশাল।
 

Comment As:

Comment (0)