২০০ রূপির অভাবে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন ইরফান

A+ A- No icon

ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন। ক্রিকেটার হবার নেশায় আর সবার মতো মাঠেই পড়ে থাকতেন। কিন্তু জীবন কাকে কোথায় নিয়ে যায় সেটা তো ওই উপরওয়ালাই জানেন। ব্যাটে-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে সুযোগ করে দিয়েছিল ভারতের বিখ্যাত ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা সিকে নাইডু ট্রফিতে। কিন্তু খেলা হয়নি শেষ পর্যন্ত অভাবের তাড়নায়। ইরফান খান আজ ওপারে পা বাড়িয়েছেন। ৫৩ বছরের জীবনে কুড়িয়েছেন অনেক খ্যাতি। ক্রিকেটার হতে পারেননি ঠিকই কিন্তু হলিউড, বলিউড থেকে শুরু করে বাংলা সিনেমায়ও পড়েছে তার পা।


স্লামডগ মিলিয়নিয়ার, লাইফ অব পাই, জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, দ্য অ্যামেজিং স্পাইডারম্যান চলচ্চিত্রের মতো বিখ্যাত সব সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু একটা আক্ষেপ তার থেকেই যাবে নিশ্চয়। মাত্র ২০০ রূপির জন্য খেলতে পারেননি সিকে নাইডু ট্রফিতে। ২০১৭ সালে কৌতূক অভিনেতা আবিশ ম্যাথুর ‘সান অব আবিশ’ অনুষ্ঠানে জীবনের দিক পাল্টানোর এই গল্প বলেছিলেন প্রয়াত এই অভিনেতা। ওই সাক্ষাৎকারে ইরফান খান বলেছিলেন, আমি অভিনয়ের জগতে আসার আগে ক্রিকেটার ছিলাম। ব্যাটিং-বোলিং দুটোই ভালো করতাম। যদিও অধিনায়ক চাইতেন আমি বোলিংয়ে মনোযোগী হই। তার কথামতো আমি উইকেট পেতাম।


ইরফান খানের পারফর্ম দেখে তাকে সিকে নাইডু টুর্নামেন্টে খেলার জন্য দলেও নিয়েছিলেন কিন্তু আফসোস সেদিন আমি ট্রেন ভাড়া ২০০ রূপি দিতে পারিনি। তাই আর যাওয়াও হয়নি টুর্নামেন্ট খেলতে। ‘আমাকে সিকে নাইডু টুর্নামেন্টের জন্য সিলেক্ট করা হয়েছিল। টুর্নামেন্ট খেলতে জয়পুর থেকে আজমির যেতে হতো। ওই টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার জন্য ট্রেনের ভাড়া লাগত ২০০ বা ২৫০ রুপি। এই টাকা আমার কাছে ছিল না। ওই দিন আমি বুঝতে পেরেছিলাম এটা আমার জন্য না। কারণ ওই সময় আমার পরিবারের অবস্থা ভালো ছিল না। আমাকে মিথ্যা বলে ক্রিকেট খেলতে যেতে হতো।’ ২০০ রূপির জন্য ক্রিকেটার হতে না পারলেও পরে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় ৩০০ রূপি দিয়ে ভর্তি হন এক বোনের থেকে ধার করে।


২০১৮ সালে নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার ধরা পড়ে ইরফানের। লন্ডনে চিকিৎসা শেষে গত কয়েকমাস আগে মুম্বাইয়ে ফিরেছিলেন তবে কয়েক মাস ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। শেষ পর্যন্ত আজ ২৯ এপ্রিল পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

Comment As:

Comment (0)