আমি আসছি ব্রহ্মময়ী

A+ A- No icon

যন্ত্রণাকাতর স্ত্রীর পাশে শুয়ে গিরিশচন্দ্রও সারারাত ঘুমাতে পারেননি। রাত ত্রিপ্রহর থেকে অস্থির অপেক্ষায় ছিলেন কখন সূর্যের আভাস দেখা যায়। বাইরে কোনোরকমে আলো ফুটে উঠলে তিনি ধুতির ওপর পাতলা নীল ফতুয়া চাপিয়ে পথে বেরিয়ে পড়লেন, বিলম্ব করার কোনো মানে নেই। দু-তিন মিনিট হাঁটতে হাঁটতে দিবালোক আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মের আলোকোজ্জ্বল প্রভাতে চারিদিকে শালিক, চড়ুই, শ্যামা, ফিঙের কলকাকলি। কোনো কোনো গাছে বোধহয় কাঁঠাল পেকে আছে, সুবাস ছড়াচ্ছে। আমগাছগুলোর তলায় দু-একটি করে রংধরা পাকা আমও তাকিয়ে আছে। আর খানিক পরেই গ্রামগুলোর ঘুম পুরোপুরি ভাঙবে, দুরন্ত শিশু-কিশোররা এসব আম পেয়ে খুশিতে নেচে উঠবে। টুপি মাথায় দেওয়া দু-তিনজন মুসলিস্ন ফজরের নামাজ শেষে দরুদ শরিফ পড়তে পড়তে মসজিদ থেকে ঘরের পথে। আধ মাইলটাক পথ পেরিয়ে গোপীকৃষ্ণ সেন মশাইয়ের বাড়িতে পৌঁছতে গিরিশের দশ-বারো মিনিটের বেশি সময় লাগল না। গোপীকৃষ্ণের স্ত্রী বাড়ির বাইরে পূজার উদ্দেশে বেতের ঝাঁপিতে বড় একটা গাছ থেকে টকটকে লাল জবা ফুল সংগ্রহ করছিলেন। তার কাছাকাছি গিয়ে গিরিশ সেন বললেন, ‘বউদি নমস্কার, গোপীদা বাড়িতেই তো? এই ভোরবেলা একটা বিপদে পইড়াই বিরক্ত করতে আইলাম।’


তিনি বোধহয় পায়ের আওয়াজ পাননি। তাই ভোরবেলা গিরিশের কণ্ঠ শুনে সামান্য চমকে উঠে ঘুরে তাকিয়ে মাথার কাপড় টেনে হাত উঠিয়ে নমস্কারের ভঙ্গি করে বলেন, ‘ও – গিরিশদা! কী যে কন, এইটুক না হইলে বন্ধু কীসের? ওই তো তিনি ওই ঘরে এহনও ঘুমাইয়া, আপনিই গিয়া ডাক দেন।’


গিরিশ টিনের ছাদ, টিনের বেড়ার ঘরে ঢুকে দেখলেন দক্ষক্ষণের জানালার কাছে সাদা কাপড়ের ওপর সবুজ-কমলা ফুলতোলা কভারের একটা বালিশে মাথা রেখে অন্য একটা ছোট বালিশ বুকের কাছে চেপে ধরে গোপীকৃষ্ণ তখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। গিরিশ তার গায়ে হাত দিয়ে ডাক দেন, ‘ও দাদা, উঠবেন? আমার একটু জরুরি দরকার।’


গোপীকৃষ্ণ ঘুমমাখা লালচে চোখ মেলে তাকে দেখে অবাক হন, সঙ্গে সঙ্গে উঠে বসেন। ‘কী হইছে গিরিশদা? কোনো খারাপ কিছু?’

‘হুম, আশঙ্কা করতেছি, আপনার বউদির পঙ হইছে। খুব খারাপ অবস্থা। আমি এইখানে একলা মানুষ রোগীরে লইয়া কিছুতেই পাইরা উঠতেছি না। আমি তারে আজকাই দ্যাশে ফিরাইয়া নিয়া যামু, একতিল বিলম্ব করার সময় নাই। পাকা মাঝি দেইখা আপনি একটা নৌকা ভাড়ার ব্যবস্থা কইরা দেন।’


গোপীকৃষ্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এক ঝটকায় উঠে বসেন, কুয়োতলায় গিয়ে মাটির কলস থেকে ঘটিতে জল ঢেলে চোখেমুখে জল দিয়ে দ্রম্নত গিরিশকে নিয়ে গোবিন্দচন্দ্রের বাড়িতে রওনা হন। গোবিন্দচন্দ্র গিরিশের শিক্ষক ছিলেন, তিনি বৃত্তান্ত শুনে বললেন, ‘ঘাবড়ানোর কিছু নাই, তুমি ঘরে যাওগা আমি আসতেছি।’ গিরিশ ঘরে ফেরার খানিক বাদে গোবিন্দচন্দ্র স্বয়ং হন্তদন্ত হয়ে দুজন চিকিৎসক নিয়ে হাজির হলেন। অ্যালোপ্যাথি আর কবিরাজি বিদ্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসক দুজন দেখেশুনে রোগীর বসন্তরোগ হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেন। দুজনের মধ্যে আলোচনা করে আবশ্যক ওষুধপথ্যের পরামর্শ দিলেন। গিরিশ দ্রম্নত কাপড়চোপড়, ওষুধপথ্য, পথের খাদ্যখাবার, বাসনপত্র ইত্যাদি গুছিয়ে নিলেন। চার দিন চার রাতের পথ, সময়টা কম নয়, আর দুর্যোগের কাল এমনিতেই দীর্ঘ বোধ হয়, সে-কথা কার অজানা। পথে কী হয় ভগবানই মালুম। গোবিন্দবাবু গিরিশের হাতের অবস্থা জানতেন, তিনি কিছু টাকা ধার করে তার হাতে দিয়ে বললেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের ঘাটে দুই দাঁড়ের নাও বাঁধা আছে, বউমারে লইয়া অক্ষণই রওনা হইয়া যাও। তুমাগো লাইগা আমার আশীর্বাদ রইল।’


ততক্ষণে গিরিশের এক বন্ধু বেহারাসহ পালকি পাঠিয়ে দিয়েছেন। কয়েক বছরের মধ্যেই ময়মনসিংহে গিরিশের অনেক বন্ধু আর শুভাকাঙক্ষী তৈরি হয়েছে। গত দু-তিন বছরে তাঁর জীবনবোধেও কম উথালপাথাল ঘটেনি। তিনি চৌদ্দো বছর বয়সে মূলপাড়ার কুলগুরু বিশ্বনাথ পঞ্চানন মশাইয়ের কাছে শিবমন্ত্র গ্রহণ করেন। এরপর প্রতিদিন স্নানশেষে বিশেষ নিষ্ঠার সঙ্গে পুষ্পচন্দন দিয়ে পূজা করতেন। তা দেখে গিরিশের জেঠাতো দাদা দেবীপ্রসাদ রায় বলেছিলেন, ‘এর যেরকম হিন্দুধর্মে নিষ্ঠা, বাস্তবিক এ আমাগো কুলের গৌরব রক্ষা করতে পারব।’ অথচ শিবপূজায় এই ভক্তি তাঁর বেশিদিন থাকেনি। নিয়মবাঁধা পূজা ত্যাগ করে তিনি কেবল ত্রিসন্ধ্যা সংক্ষক্ষপ্ত আহ্নিক করতে থাকেন। আর ময়মনসিংহে ছোড়দার কাছে যাওয়ার পরে স্নানশেষে মূলমন্ত্র ‘নমঃ শিবায়’ জপ করতে থাকেন। গিরিশের পরিবারের রীতি হলো, শিবমন্ত্র গ্রহণের কিছুকাল পরে শক্তিমন্ত্রে ধাতস্থ হওয়া। অথচ তাঁর গতি হলো উলটো ধারায়। তিনি মূলমন্ত্র জপ করাও বাদ দিলেন, হিন্দুধর্মের পূজা-অর্চনায় আস্থা হারিয়ে কেবল এক ঈশ্বরের অস্তিত্বেই তাঁর বিশ্বাস রইল। তবে ময়মনসিংহে অবস্থানের প্রথম দিকে ব্রাহ্মধর্ম সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত বিরূপ ছিলেন। তাঁর ভগ্নিপতি কালীনাথ গুপ্ত ময়মনসিংহের ব্রাহ্মসভার সদস্য হয়েছেন শুনে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত হন, ব্রাহ্মসমাজ-সংশিস্নষ্ট হওয়ায় এমনকি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতিও গিরিশের অশ্রদ্ধা জন্মে। ময়মনসিংহে ব্রাহ্মসমাজের বেশিরভাগ সভ্য চরিত্রহীন ছিলেন বলে শোনা যায়। এদের অনেকেই পানাসক্ত ছিলেন। একদিন কলকাতা থেকে আসা এক বৃদ্ধ ওখানকার সভায় আম্রফলে ঈশ্বরের মহিমা বিষয়ে বক্তৃতা দিতে দিতে দু-চার কথা বলেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। লোকটি আসলে মাতাল অবস্থায় সভায় এসেছিলেন। ১৭৮৭ শতাব্দের অঘ্রান মাসে ময়মনসিংহ শহরে একটা কৃষি-প্রদর্শনী মেলা বসে। সে-সময় সেখানে কেশবচন্দ্র সেন সাধু অঘোরনাথকে সঙ্গে করে হাজির হন। জাত যাওয়ার ভয়ে ওই শহরের কেউ ওই দুজনকে তাদের নিজের বাড়িতে জায়গা দেননি। তাই সমাজগৃহের পাশে তাঁবু গেড়ে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। যাই হোক, কেশবচন্দ্র, অঘোরনাথ প্রমুখের সান্নিধ্যে ব্রাহ্মসমাজ সম্পর্কে গিরিশের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়। একসময় ব্রাহ্মরাই ময়মনসিংহে তাঁর প্রধান হিতাকাঙক্ষীতে পরিণত হন।


স্ত্রীর এই মুমূর্ষু অবস্থায় ময়মনসিংহবাসীর সহানুভূতি ও তৎপরতায় গিরিশের মন কৃতজ্ঞতায় বিগলিত হয়। রোগীকে কিছু পথ্য করিয়ে বেলা দশটার দিকে তাকে গিরিশ পালকিতে উঠিয়ে দিয়ে নিজে পিছু পিছু হাঁটতে থাকলেন। মিনিট পনেরোর পথ পেরিয়ে ব্রহ্মপুত্রের ঘাটে ভেড়ানো নৌকায় ওঠা হলো। তাঁরা দুজন ছাড়া নৌকাযাত্রার সঙ্গী হলো হিন্দিভাষী ভৃত্য গোপাল। বর্ষাকাল হলে ভরা গাঙে স্রোতের টানে নৌকা বেশ দ্রম্নতই এগোয়। কিন্তু এখন কেবল জ্যৈষ্ঠের প্রথম ভাগ, ব্রহ্মপুত্র নদে স্রোত প্রখর হয়নি। গিরিশ জানেন, এ-রোগীকে নিয়ে পথে বিলম্ব করবার কোনো সুযোগ নেই। তিনি মাঝি ও দাঁড়িদের বললেন, ‘সারা দিনরাত একটানা দ্রম্নত নৌকা চালাইয়া যাও। যদি কাইল দুপুরের মইদ্যে ঘোড়াশাল ঘাটে পৌঁছাইতে পার তাইলে সবাইকে একটা করে টাকা বকশিশ দিব।’


অনুকূল আবহাওয়ায় নাবিকেরা যথাশক্তি নৌকা চালাতে লাগল। রাত নয়টা বাজতে বাজতে নৌকা ব্রহ্মপুত্র নদ পেরিয়ে বানার নদের সঙ্গমস্থলে ঘোড়াশালের অর্ধেক পথে টোক নামক গ্রামে পৌঁছল। ততক্ষণে আকাশে ঘন কালো মেঘ, বাতাসে নদীর জল উথালপাথাল করছে। বিদ্যুৎ চমক আর বজ্রপাতের সঙ্গে প্রচ- বৃষ্টি শুরু হলো। ছইয়ের ভেতর সামান্য বৃষ্টির ছাঁট এসে লাগছিল। তখন ব্রহ্মময়ী গিরিশকে দু-বাহুতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘আমার ভয় করতেছে।’


গিরিশ বললেন, ‘ভয় নাই। এ-সময় বৃষ্টি বেশিক্ষণ হয় না। আমরা আর তিনদিনের মইদ্যে বাড়ি পৌঁছাইয়া যামু।’

‘আমার জন্য তোমার এতো কষ্ট, এতো টাকা-পয়সা ব্যয়। আমি তো মরবই, যাওয়ার সময় তোমারেও মাইরা যাইতাছি।’

‘তোমার এমনে কথা বলাডা বড় অন্যায়। আমার অর্থসম্পত্তি আর এই আমার জীবনের সার্থকতা আর কী? একটা কন্যাসন্তান ভগবান দিছিলেন, তাও আবার দু-সপ্তাহের মইদ্যে ফিরাইয়া লইলেন। এখন তুমিই তো আমার সব।’

কথা শুনে এতক্ষণ নীরবে অশ্রম্নপাত করতে থাকা ব্রহ্মময়ী


ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কেঁপে-কেঁপে কেঁদে ওঠেন। আর বলেন, ‘তুমি জানো, মরতে আমার কোনো দুঃখ নাই। কিন্তু আমি তোমারে ছাইড়া চইলা যামু এই কথাডাই মানা খুব কঠিন।’

মাঝিরা নৌকা চালাতে না পেরে ঘাটে ভিড়িয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। রাতও গভীর। ব্রহ্মময়ী ঘুমের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ জেগে মাঝে ‘আমি যামু না, ও মা, তুমি অগো মানা করো; এই তোরা কাছে আসবি না কইলাম’ – এসব প্রলাপ বকছে। গিরিশের ক্লান্ত চোখে কোনো ঘুম নেই। বাতাসের প্রবল বেগের কারণে নৌকার মধ্যে কোনো প্রদীপ থাকছে না বলে চারপাশে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। রাত্রির শেষ প্রহরে বৃষ্টিটা বোধহয় ধরে এলো, তখন দূর থেকে শেয়ালের হাঁক, পেঁচা আর তক্ষকের ডাক শোনা যায়। বেশ খানিকটা সময় বাদে মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ ভেসে এলে গিরিশ নিজের চোখেমুখে জলের ঝাপটা নিলেন, তারপর নৌকা চালানোর জন্য নাবিকদের ডেকে তুললেন। মাঝিরা টের পাওয়া মাত্র চোখ কচলে সবাই প্রায় একযোগে উঠে বসে। নোঙর তুলে


লগি-বৈঠা নিয়ে দ্রম্নতই যে যার অবস্থান নেয়। নৌকা খানিক এগোবার পরই বোঝা গেল প্রতিকূল বাতাসের কারণে লক্ষ্যার বুকে এগিয়ে যাওয়া খুব কষ্ট হচ্ছে। তবু নাবিকরা প্রাণপণে তাদের দায়িত্ব পালন করায় সন্ধের খানিক আগেই নৌকা ঘোড়াশাল পৌঁছে গেল। লক্ষ্যা নদীর পুবকূলে ঘোড়াশাল গাঁয়ের পাশে ঘাঘড়ার খাল নামে যে ছোট খালটি আছে সেই খালের মুখেই নৌকা ভেড়ানো হলো। সেখান থেকে ভাটপাড়া গ্রাম অন্তত তিন মাইল দূর। খানিক এগোলে ঘাঘড়ার খালের কোথাও হাঁটুজল, কোথাও প্রায় শুষ্ক বলে জলপথে যাওয়া সম্ভব নয়। গিরিশচন্দ্র তার সম্বন্ধী জগচ্চন্দ্র রায়ের নামে একটি চিঠি লিখে চাকর গোপালের হাতে দিলেন। তাতে ব্রহ্মময়ীর অবস্থা বর্ণনা করে পালকির বেহারা আর চিকিৎসক মাণিক আচার্য্যকে পাঠানোর অনুরোধ করলেন। গোপাল পথে চিঠিটি হারিয়ে ফেললেও গিরিশের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বলল, ‘মাইজি ঘাটপর পঁহুছি, ওনকো চিচক্কি বিমারি হুয়ি।’ তাতে ও-বাড়ির লোকজন বৃত্তান্ত বুঝতে পারলেও ডাক্তার কিংবা বেহারা পাঠানো তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তখন বেহারা পাওয়া দুষ্কর ছিল। সামনে বর্ষাকাল আসছে তাই বিদেশি বেহারারা প্রায় সকলেই দেশে ফিরে গিয়েছে। জগচ্চন্দ্র অনেক চেষ্টা করেও বোনকে আনার জন্য বেহারা পাঠাতে পারছেন না। গোপালের দেরি দেখে গিরিশ ভাবলেন, সে বোধহয় ওই বাড়িতেই রাত কাটিয়ে দিচ্ছে। এদিকে পালকির জন্য অপেক্ষা করে করে গিরিশ একসময় নিরাশ হয়ে পড়লেন। সন্ধের খানিক আগে ব্রহ্মময়ী নৌকার ছাউনির ভেতর থেকে বেরিয়ে সামনের দিকে এসে বসলেন। লক্ষ্যা নদীতে সূর্য ডুবুডুবু, পাখিরা ঘরে ফিরছে, অস্তায়মান সূর্যের লালিমা প্রতিফলিত হচ্ছে নদীর জলে। মৃদুমন্দ বাতাসে নদীতীরের ফসলক্ষেতের পাট, আখ প্রভৃতি উদ্ভিদরাজি দুলছে। এই পরিবেশে ব্রহ্মময়ীর শরীর ও মন সামান্য হলেও প্রফুলস্ন হয়ে উঠল। গিরিশ স্ত্রীকে বললেন, ‘এখন কি তোমার একটু ভালো লাগতাছে?’

Comment As:

Comment (0)