মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যচর্চা

A+ A- No icon

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের পঞ্চমবৈদিকদের মধ্যে সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য নাম নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমদ (১৯৩৫-২০১৯)। স্বাধীনতা-উত্তর নাট্যান্দোলনের মূল চেতনা ও প্রবণতাসমূহ উঠে এসেছে তাঁর নাটকে। তিনি নির্মাণ করেছেন নাটকের স্বতন্ত্র সমৃদ্ধ ভুবন। তাঁর বিস্তৃত নাট্যসম্ভার বাংলা নাট্যসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে। ড.মনিরুজ্জামান বলেন- ‘মমতাজউদদীন আহমদের নাটক আমাদের জাতীয় মুহুর্তের দলিল। এগুলি আমাদের জাতীয় দুর্দিনের সৃষ্টি। আমাদের জাতীয় নাটক। এক কথায় মমতাজউদদীন আহমদ আমাদের জাতীয় নাট্যকার’।


মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যচর্চার সূত্রপাত চট্টগ্রামে। এ নগরীতেই ঘটেছে তার নাট্যচিন্তার উন্মেষ, বিকাশ ও বহুমাত্রিক প্রকাশ। জন্ম বা পৈতৃকসূত্রে তিনি চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন না। অধ্যাপনাসূত্রে তিনি চট্টগ্রাম আগমন করেন। ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয় তার চট্টগ্রামজীবন। এরপর পেশা এবং বৈবাহিকসূত্রে চট্টগ্রামের সাথে গড়ে ওঠে তার নিবিড় সম্পর্ক। এ নগরীতে কেটেছে তাঁর নাট্যজীবনের সোনালি সময়। প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক ও জাতীয় দুর্দিনেও তিনি আস্থা রেখেছেন নাটকের সংলাপে। ১৯৬০এর প্রবল জলোচ্ছ্বাস কিংবা ১৯৭১এর উত্তাল কালখণ্ডেও তিনি চট্টগ্রাম ছেড়ে যাননি। দুর্যোগ কবলিত মানুষের সহায়তায় এবং একাত্তরের উত্তাল মার্চে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তিনি নাটক রচনা ও নির্দেশনায় নিবেদিত ছিলেন।


মমতাজউদদীন আহমদের কাছে নাটক কোনো সৌখিন শিল্পকলা ছিলো না। তাঁর কাছে নাটক আর জীবন ছিল সমার্থক। যেখানে জীবন বিপন্ন হয়েছে সেখানেই তিনি দাঁড়িয়েছেন সংলাপের শক্তি নিয়ে। তাঁর জীবনের প্রথম নাটকটিই ছিলো সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার উদাহরণ। ১৯৬০ সালের জলোচ্ছ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত নাটকটির নাম ‘তবুও আমরা বাঁচবো’। সেবছর প্রকৃতির তাণ্ডবলীলায় চট্টগ্রাম নোয়াখালির উপকূলীয় অঞ্চলে মারা যায় বিপুল সংখ্যক মানুষ। সাগরে ভাসমান লাশের সারি আর জীবিত মানুষের আর্ত আহাজারি তার মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় এবং তরুণমনে জাগায় তীব্র বিবমিষা। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাইলেও যেতে পারেননি মানবিকতার টানে। মানবতার এ তীব্র বিপর্যয়ে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ালেন নাটক নিয়ে।

 

‘তবুও আমরা বাঁচবো’ মঞ্চস্থ হয় ১৯৬১ সালে। এটিকে নাট্যকার আঙ্গিকের বিচারে সফল নাটক বলেননি। বলেছেন ‘নাটক জাতীয় একটা কিছু। ঠিক নাটক নয়, কিছুটা প্রামাণ্য ঘটনার মতো। কিছু অংশে ছায়ানাট্য ছিলো’। আঙ্গিকের বিচারে যতই অসফল হোক না কেন, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে নাটকটি পালন করেছে অসামান্য ভূমিকা। নাটকটি পর পর দুদিন মঞ্চস্থ হয়। মঞ্চায়ন উপলক্ষে তাঁর ছাত্ররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকেট বিক্রি করেছে। সংগৃহীত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে দুর্গত মানুষের জন্য।


চট্টগ্রামে আগমনের পরপরই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যকারসত্তা বিকশিত হতে থাকে। অতি দ্রুত তিনি চট্টগ্রামের সমকালীন সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ফলত, যে কোন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল অনিবার্য । ১৯৬০ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ) চট্টগ্রামে ‘নজরুল হীরক জয়ন্তী’ উদযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজন। এ আয়োজনে মমতাজউদদীন আহমদ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘নজরুল হীরক জয়ন্তী’ অনুষ্ঠানে মঞ্চায়নের জন্য তিনি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাক্ষুসী’ গল্পের নাট্যরূপ দেন। নাটকটি মাহবুব হাসানের নির্দেশনায় অনুষ্ঠানে সাফল্যের সাথে মঞ্চস্থ হয়। ‘রাক্ষুসী’ নাটকের মূল চরিত্র বিন্দির ভুমিকায় অভিনয় করেন মণি ইমাম। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন- নাসরিন, কাজী আলি ইমাম, মাহবুব হাসান প্রমুখ।


চট্টগ্রাম বেতারের সঙ্গে মমতাজউদদীন আহমদের ছিল নিবিড় সম্পর্ক। এ সম্পর্ক পথিকৃতের। ১৯৬৩ সালের ১ মার্চ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও ১৯৬২ সালেই শুরু হয় চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার। একই বছর সম্প্রচারিত হয় এ কেন্দ্রের প্রথম নাটক। নাটক রচনার জন্য আমন্ত্রণ পান মমতাজউদ্দিন আহমদ। তার হাতেই রচিত হলো চট্টগ্রাম বেতারের প্রথম নাটক ‘সাগর থেকে এলাম’। কামাল এ খানের প্রযোজনায় ১৯৬২ সালের ১১ নভেম্বর নাটকটি সম্প্রচারিত হয়। ৩০ মিনিট স্থিতিকালের এ নাটকে কণ্ঠ দিয়েছেন- মাহবুব হাসান, ইসমত জাকিয়া শেলী, নাসিরউদ্দিন আহমেদ, সিএম রোজারিও, হাসিনা চৌধুরী, সাদেক নবী, শামসুল আজম, ভোলা সেন, পাসকেল বিশ্বাস, গীতা ঘোষ, মাসুদা নবী প্রমুখ। চট্টগ্রাম অবস্থানকালে তার রচিত অনেকগুলো নাটক চট্টগ্রাম বেতারে সম্প্রচারিত হয়েছে। এর মধ্যে – ‘বর্ণচোরা’ ‘রাজা অনুস্বারের পালা’ উল্লেখযোগ্য।


মুক্তিযুদ্ধে মমতাজউদদীন আহমদের সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার কথা সুবিদিত। মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিকুণ্ডে বসে তিনি নাটক লিখেছেন। একাত্তরের উত্তাল মার্চে পশ্চিম পাকিস্তানের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মমতাজউদদীন আহমদ চট্টগ্রামে বসে রচনা করেন ‘এবারের সংগ্রাম’ (রচনাকাল ১৪ মার্চ) ও ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ (রচনাকাল ২১ মার্চ)। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তি আকাঙ্ক্ষা এবং শাসকবর্গের অত্যাচার ও বাঙালির রুখে দাঁড়ানোর চিত্র রয়েছে নাটক দুটোতে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন ময়দানে এবং খোলামঞ্চে নাটক দুটো অভিনীত হয়ে চট্টগ্রামবাসীর মনে জাগিয়ে তুলেছে পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।


১৫ মার্চ ঐতিহাসিক লালদীঘির মাঠে স্বাধীনতাকামী লক্ষাধিক সমবেত জনতার সামনে অভিনীত হয় ‘এবারের সংগ্রাম’। নাটকটি তিনি রচনা করেন ১৪ মার্চ মধ্যরাতে। একাত্তর সালের উত্তাল সময়ে শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এ নাটকের সংলাপে তিনি যুক্ত করেছেন সংগ্রামী চেতনা। অবশ্য এর জন্য নাট্যকার আশ্রয় নিয়েছেন রূপকের। বাদশা-উজীর-সিপাহসালার প্রভৃতি চরিত্রের মধ্যদিয়ে সামন্তপ্রভু অর্থাৎ পাকিস্তানি শোষকের শোষণ প্রক্রিয়াকে উন্মোচন করেছেন। সেই সাথে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকের ঔপনিবেশিক মানসিকতাটিও ফুটে উঠেছে এ নাটকে। যাত্রাপালার রীতিতে এ নাটকের সংলাপগুলো রচিত। প্রদর্শনীর আয়োজক ‘শিল্পী-সাহিত্যিক-সংস্কৃতিসেবী প্রতিরোধ সংঘ’। নাট্যকার নিজেই ছিলেন এ নাটকের প্রম্পটার। অভিনয় করেছেন- মাহবুব হাসান, হাবিবুর রহমান জালাল, একেএম আসাদুজ্জামান, মোহাম্মদ ফরিদ, সিএম রোজারিও। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে পুরো মার্চজুড়ে চট্টগ্রামের শিল্পএলাকা, বন্দরএলাকা, আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং শহরের বাইরে রাঙ্গুনীয়া কলেজ মাঠে খোলানাটক হিসাবে নাটকটি প্রদর্শিত হয়।


‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ অভিনীত হয় ২৪ মার্চ চকবাজারে প্যারেড মাঠে। জানা যায়, প্রায় ৮০ হাজার দ্রোহীজনতা ছিল এ নাটকের দর্শক। আয়োজক ছিল ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি’। এ নাটকে অভিনয় করেছেন- মমতাজউদদীন আহমদ, হাবিবুর রহমান জালাল, সুলতানুল আলম, শফিকুর রহমান, সিএম রোজারিও, এহসানুল গনি, মাহবুব হাসান, দানীউল হক প্রমুখ। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকবৃন্দের উপনিবেশিক শোষণ-নিপীড়ন থেকে মুক্তির জন্য বাঙালির রুখে দাঁড়ানোর বিষয়টি মমতাজউদদীন আহমদের নাটকে ঘুরেফিরে এসেছে। ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ নাটকেও একই বিষয় ভাবনা লক্ষ্য করা যায়। এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় ‘এবারের সংগ্রাম’ এবং ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ নাটকদুটো মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রচিত। তাই বিষয়ভাবনা এবং বক্তব্যকথার বিচারে নাটকদুটো প্রায় অভিন্ন।

 

তবে দ্বিতীয় অর্থাৎ ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ নাটকে স্বাধীনতার দাবি অনেক বেশি স্পষ্ট এবং সরাসরি। সেই সাথে পশ্চিমাদের দমন-নিপীড়নের মাত্রাটিও অনেক বেশি তীব্রভাবে প্রতিফলিত। নির্যাতনে নিষ্পেষিত ও অপমানিত বাঙালির অধিকার সচেতনতা, এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চমৎকারভাবে উঠে এসেছে এ নাটকে। নাটকটির প্রদর্শনী চলাকালে সংবাদ আসে চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি অস্ত্রবাহী জাহাজ ‘সোয়াত’ থেকে অস্ত্র নামাতে বাধা দিচ্ছে জনতা এবং প্রতিরোধকারী জনসাধারণের উপর গুলিবর্ষণ করেছে পাকিস্তানি সৈন্যরা। এ সংবাদে তুমুল বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মাঠের দর্শক। নাটক শেষে প্রায় ১০ হাজার দর্শক মিছিল সহযোগে স্বতঃস্ফুর্ত আবেগে ছুটে গিয়ে অস্ত্রখালাস প্রতিরোধে যোগ দিয়েছে।

 

প্রসঙ্গত,একাত্তরের মধ্যমার্চে খাদ্যশস্যের আড়ালে যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে আসে পাকিস্তানের পতাকাবাহী সোয়াত জাহাজ। ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে জাহাজ ও বন্দরের বাঙালি শ্রমিকরা অস্ত্র খালাসে বাধা দেয়। প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্বিচারে গুলি চালায়। শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বাঙালি সৈনিকদের বাধ্য করে অস্ত্র খালাসে। অস্ত্র খালাস শেষ হলে বাঙালি সৈনিকদের জেটির প্লাটফর্মে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে বর্বর পাকসেনারা।


চট্টগ্রামের বিভিন্ন ময়দানে এবং খোলামঞ্চে নাটক দুটো অভিনীত হয়ে পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে শিল্পীরা জাগিয়ে তুলেছে তীব্র প্রতিবাদী চেতনা এবং চট্টগ্রামবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছে মুক্তিযুদ্ধে। উত্তরকালে বাংলাদেশের নবনাট্য আন্দোলনে এ নাটকদুটোর প্রভাব অনস্বীকার্য। নবনাট্যের রূপ-রীতি, আঙ্গিক ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটা রূপরেখা এতে প্রতিফলিত হয়েছে। বলা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাটকে প্রতিফলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ চেতনা এবং ‘পথনাটক’ নামে যে প্রতিবাদী নবনাট্য আঙ্গিকের উন্মেষ ঘটেছে, মমতাজউদদীন আহমদের এ নাটক দুটো সে চিন্তা চেতনার উন্মোচক।


মঞ্চনাটককে স্বাধীনতার শ্রেষ্ঠ শিল্পশস্য হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। স্বাধীনতার স্পর্শে, মুক্তির আনন্দে, ১৯৭২ সালে রাজধানীতে প্রথমে নিয়মিত মঞ্চনাট্য চর্চা শুরু হয়। পরের বছর চট্টগ্রামে তার ঢেউ এসে লাগে। ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘থিয়েটার-৭৩’ নাট্যদলের দুটো নাট্যপ্রযোজনার মাধ্যমে শুরু হয় চট্টগ্রামে শহরকেন্দ্রিক গ্রুপ থিয়েটার তথা নিয়মিত মঞ্চনাট্যচর্চার পল্লবিত পথযাত্রা। চট্টগ্রামে নিয়মিত নাট্যচর্চার উন্মেষকালে মমতাজউদ্দিন আহমদ পালন করেছেন সংগঠকের ভূমিকা। ‘থিয়েটার-৭৩’ গঠনে তিনি অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন এ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। যে দুটি নাটকের মাধ্যমে চট্টগ্রামে নবনাট্য আন্দোলনের সূত্রপাত হয় তার একটির নাট্যকার ও নির্দেশক ছিলেন মমতাজউদদীন আহমদ। নাটকটির নাম ‘স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা’। এরপর ‘থিয়েটার-৭৩’ এর প্রযোজনা হিসাবে তার রচনা ও নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় ‘ফলাফল নিম্নচাপ’ ‘হরিণ চিতা চিল’ প্রভৃতি নাটক।


মমতাজউদদীন আহমদ আমাদের বৈরীকালের বিশ্বস্ত বান্ধব। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থেকেও তিনি পুরো ষাট ও সত্তরের দশকজুড়ে নাটকের রচনা, নির্দেশনা, অভিনয় ও সাংগঠনিক কাজ নিয়ে চট্টগ্রামে অত্যন্ত সৃজনমুখর ফলপ্রসূ সময় অতিবাহিত করেছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল তার পথিকৃত ভূমিকা। চট্টগ্রামে অবস্থানকালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিতাড়িত সময়কে প্রত্যক্ষ করেছেন। উত্তরকালে তার নাটকে ঘুরেফিরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের আবেগ উত্তাপ ও বেদনার অবিমিশ্র নাট্যভাষ্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে এবং শোষণ, বঞ্চনা, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য মমতাজউদদীন আহমদের নাটক আজও আমাদের যোগ্য শব্দাস্ত্র।

Comment As:

Comment (0)