স্মার্টফোন উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে হুয়াওয়ে?

A+ A- No icon

ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মুখে স্মার্টফোন উত্পাদন স্থগিত করেছে হুয়াওয়ে। ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা হওয়ার লক্ষ্য পুনর্বিবেচনার অংশ হিসেবে সাময়িক এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এমন একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে চীনা গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। 


চীনা গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফক্সকনের কারখানায় হুয়াওয়ের স্মার্টফোন উত্পাদন বন্ধ করা হয়েছে। তাইওয়ানের এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপল ও শাওমির মতো ব্র্যান্ডের পণ্য উত্পাদন ও সংযোজন করে থাকে। সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে গুগল অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের হালনাগাদ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী হুয়াওয়ের নতুন স্মার্টফোনের চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে ফক্সকনের কারখানায় হুয়াওয়ের ফোন উত্পাদন স্থগিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি হুয়াওয়ের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড অনারের প্রেসিডেন্ট ঝাও মিং। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, নতুন একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। সে কারণে আগামী বছরের মধ্যে ১ নম্বর স্মার্টফোন কোম্পানি হওয়ার লক্ষ্য অর্জন নিয়ে এখনো মন্তব্য করার সময় হয়নি।


চীনা পত্রিকাটি হুয়াওয়ের স্মার্টফোন উত্পাদন বন্ধের তথ্যটি নিশ্চিত করতে কয়েকজন ব্যক্তির বরাত দিলেও কারো পরিচয় প্রকাশ করেনি। বর্তমানে সরবরাহের দিক থেকে শীর্ষ স্মার্টফোন কোম্পানি দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং। তবে ২০২০ সালের মধ্যে স্যামসাংকে টপকে ১ নম্বরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ে। কোম্পানিটি সে লক্ষ্য সামনে রেখেই এগোচ্ছিল। শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে হুয়াওয়ের স্মার্টফোনের বৈশ্বিক বিক্রি বেড়ে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময় ছিল ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে গত মাসের শেষ নাগাদ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে হুয়াওয়ে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত হয় হুয়াওয়ে। ফলে সরকারি অনুমতি ছাড়া এ চীনা কোম্পাানি আর মার্কিন কোনো কোম্পানির সেবা, হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার কিনতে পারবে না। এতে করে চিপ নির্মাতা মার্কিন কোম্পানি কোয়ালকম ও অ্যান্ড্রয়েড নির্মাতা গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হুয়াওয়ের সম্পর্ক অনিশ্চিত হয়ে গেছে।


এরই মধ্যে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ স্টোর বানানোর প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে বলে জানিয়েছে হুয়াওয়ে। তবে গুগলের ইকোসিস্টেমের কাছে স্মার্টফোনের আন্তর্জাতিক বাজারে হুয়াওয়ে কোনোভাবেই সুবিধা করতে পারবে না বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।


প্রসঙ্গত, চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ের ওপর হঠাত্ এ মার্কিন খড়গ মূলত চলমান সিনো-মার্কিন বাণিজ্যযুুদ্ধেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুয়াওয়ের, বিশেষ করে ফাইভজি টেলিকম সরঞ্জাম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছেন। তাছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকায় হুয়াওয়ের নাম সরাসরি উল্লেখও করা হয়নি। গত ১০ মে চীনা পণ্য আমদানিতে মোট ২০ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত শুল্কারোপের মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে সমঝোতার পরিবেশও কার্যত অসম্ভব করে তুলেছেন। চীনা পণ্যে ১০ শতাংশের স্থলে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীনও মার্কিন পণ্যে ৬ হাজার কোটি ডলার আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। এ সিদ্ধান্ত ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে।

Comment As:

Comment (0)