যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে দরকার হবে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য

A+ A- No icon

এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে গেলে প্রায় সব আবেদনকারীদের ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এই বিধি আরোপের প্রস্তাব করেছিল। কূটনীতিক ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসার ক্ষেত্রে অবশ্য এই বিধির কঠোরতা থাকছে না। তবে কেউ সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহৃত নাম (ইউজার আইডি) এবং গত পাঁচ বছর যাবত ব্যবহার করা হয়েছে, এমন ই-মেইল এবং ফোন নম্বর জমা দিতে হবে। গত বছর যখন এই নিয়মের প্রস্তাব করা হয়, তখন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর হিসেব করে দেখেছিল যে এর ফলে ভিসা পেতে আগ্রহী এক কোটি সাতচল্লিশ লক্ষ মানুষের ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। কূটনীতিক এবং সরকারী কর্মকর্তাদের ভিসার ক্ষেত্রে সবসময় এই কঠোর ব্যবস্থা নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কিংবা পড়াশুনার জন্য যারা যেতে আগ্রহী তাদের তথ্য জমা দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সম্পর্কে কেউ যদি মিথ্যা তথ্য দেয় তাহলে তাকে অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তবে কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার না করে তাহলে সেটি উল্লেখ করার সুযোগ থাকবে ভিসা আবেদন ফর্মে।


ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কর্মকাণ্ড নজরদারীতে রাখতে চায় মার্কিন প্রশাসন। কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে দেখা গেছে যে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের জন্য একটি ক্ষেত্র হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের বাছাই করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা মনে করেন। সে সময় আমেরিকার একটি মানবাধিকার সংস্থা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন বলেছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারী করে কোন কার্যকর কিছু হয়েছে এমন প্রমাণ নেই। সংস্থাটি বলেছে, এর ফলে মানুষ অনলাইনে তাদের মতপ্রকাশের বিষয়টি নিজে থেকেই সীমিত করে ফেলবে।

Comment As:

Comment (0)