অতিরিক্ত করারোপে হুমকির মুখে অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজ-সেবা

A+A- No icon

বিগত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাবাহিক উন্নতি ঘটছে। আর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর। সরকারের ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার একাংশ হচ্ছে বহিঃবিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের আকাশপথের সেবায় এসেছে অনেক পরিবর্তন। কিন্তু আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চার্টার্ড প্লেন এবং হেলিকপ্টার ভ্রমণে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এই অতিরিক্ত করারোপের ফলে আকাশপথের এই সেবাখাতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও প্রায় সময়ই কিছু রাস্তায় যানজট সমস্যার কারণে এবং সময়ের কারণে আকাশপথের সেবা খুব দ্রুত অগ্রগতি লাভ করছে। সরকারের এভিয়েশন নীতির কারণে বেশ কিছু বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের এভিয়েশন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশপথে সেবা খাতে পরিবর্তন আসছে। এসব বিভিন্ন কারণে আকাশপথের সেবা গ্রহণের গুরুত্বও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের রপ্তানির প্রধান চালিকা শক্তি গার্মেন্টস, ওষুধ, বিভিন্ন রপ্তানি শিল্পসমূহ এবং তাদের বিদেশি ক্রেতা ও কর্পোরেট ব্যক্তিদের সময়ের প্রয়োজনে শিল্প ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে চার্টার্ড প্লেন এবং হেলিকপ্টার ভাড়া করেন।

 

কিন্তু আগামী অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চার্টার্ড প্লেন এবং হেলিকপ্টার ভ্রমণে সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে এখন গ্রাহককে প্রতি ১০০ টাকা ভাড়ায় অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হবে ৪৩ টাকা ৭৫ পয়সা। এখানে ১০০ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কসহ ভাড়া হয় ১২৫ টাকা এবং ভ্যাট ১৫ শতাংশসহ ভাড়া দাঁড়ায় ১৪৩ টাকা ৭৫ পয়সা। এতে কোম্পানি সমূহের পরিচালনা ব্যয় বাড়বে, যা প্রভাব ফেলবে সম্ভাবনাময় শিল্পে, কর্মসংস্থানে এবং রাজস্ব আয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে আকাশপথের এই সেবাখাতে দেখা দিতে পারে বিপর্যয়। এই অতিরিক্ত কর বিভিন্ন শিল্পখাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে থাকলে এই খাত থেকে দেশের বড় একটা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা থাকে।

Comment As:

Comment (0)