দূতাবাসগুলো যে কারণে পুরনো পাসপোর্ট দেখতে চায়

A+ A- No icon

যে কারণে প্রয়োজন পুরনো পাসপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা দ্য হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে বিশ্বের ৩৮টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করা যায়। বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকেরা ওই ৩৮টি দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পোর্ট ভিসা বা ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান। পোর্ট ভিসা বা ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার জন্য খুব বেশি তথ্য বা প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। তবে ভারত, যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর দূতাবাস ভিসা আবেদনের সঙ্গে পুরনো পাসপোর্টের তথ্যসহ পুরনো পাসপোর্টের সংযুক্তিও দেখতে চায়। যাদের একটি মাত্র পাসপোর্ট তাদের বিষয়টি আলাদা।

 

মূলত নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টতার কারণে এসব দেশের দূতাবাস আবেদনকারীদের পুরনো পাসপোর্টকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তারা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের চোখে দেখে। আবেদনকারীর বর্তমান পাসপোর্টে এসব দেশের ভিসা না থাকলেও পুরনো পাসপোর্টে আছে কিনা, তা সরেজমিন দেখে যাচাই করতে চায় তারা। কোনও দেশ বা বন্দর ভিসা না দিয়ে কাউকে ‘ডিপোর্ট’ করেছে কিনা, পাসপোর্টে ‘রিজেক্ট’ সিল পড়েছে কিনা, তাও যাচাই করার জন্য পুরনো পাসপোর্ট দেখতে চাওয়া হয়।

 

কোন কোন পাসপোর্ট ‘রি-ইস্যু’ করা। অর্থাৎ নামের বানান ভুল, জন্ম তারিখ ভুল, সন্তান বা স্ত্রীর নামের বানান ভুল বা এজাতীয় তথ্যে ভুল থাকার কারণে পাসপোর্ট ‘রি-ইস্যু’ করার সুযোগ আছে। ‘রি-ইস্যু’ হওয়া পাসপোর্টে পুরনো পাসপোর্টের তথ্য থাকে। তবে ভিসার আবেদন করলে ওই ভুল আসলে কতটা সত্য বা বাস্তব তা যাচাই করতেও পুরনো পাসপোর্ট দেখতে চায় অনেক দেশের দূতাবাস। অনেকের ক্ষেত্রে বর্তমান ও পুরনো পাসপোর্টের তথ্যেও নানা ধরনের গরমিল দেখা যায়। সেক্ষেত্রেও বর্তমান ও পুরনো পাসপোর্ট যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। তবে পুরনো পাসপোর্ট যদি হারিয়ে যায়,তাহলে পাসপোর্ট অফিসের ক্লিয়ারেন্স ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি জমা দিতে হয়।

 

ঢাকায় বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশন সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) সিদ্ধান্ত মেনে ২০১০ সালের ১ এপ্রিল বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) তৈরি ও বিতরণ শুরু করে। আর ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে হাতে লেখা পাসপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় বাংলাদেশে। এমআরপি আসার পর হাইকমিশন ও দূতাবাসগুলো লক্ষ করে যে, ভিসা ফরমে আবেদনকারীরা বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের কথা উল্লেখ করছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে প্রমাণ চাইলে বলা হয়— হাতে লেখা পুরনো পাসপোর্টে উল্লেখ করা দেশের ভিসা আছে। পরে অবশ্য তারা প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেও ভিসা আবেদনকারীদের কাছে পুরনো পাসপোর্ট দেখতে চাওয়ার নিয়ম করা হয়।

 

শুধু যে ভিসার আবেদনেই পুরনো পাসপোর্ট উপস্থাপন বা তথ্যের প্রয়োজন হয়, তা কিন্তু নয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন পাসপোর্ট করার সময়ও পুরনো পাসপোর্টের তথ্যের উল্লেখ করতে হয়। বিভিন্ন দেশের হাইকমিশন ও দূতাবাসে পুরনো পাসপোর্ট দেখতে চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণেই হাইকমিশন বা দূতাবাসগুলো পুরনো পাসপোর্টের তথ্য জানতে চায়, সরাসরি দেখতেও চায়। যাদের পুরনো পাসপোর্ট আছে তাদের দেখাতে আপত্তি করার কোনও কারণ আছে বলে মনে করি না। আর এই নিয়ম শুধু বাংলাদেশিদের জন্য না।

 

বাংলাদেশের ভিসা পেতেও অনেক বিদেশিকে পুরনো পাসপোর্ট দেখাতে হয়। এতে করে তথ্য গোপন করার বিষয়টিও অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির বলেন, ‘মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) যখন ছিল না, হাতে লেখা পাসপোর্টের যুগে অনেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করতো। এ বিষয়গুলো শুধু যে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ জানে তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশে যেসব দেশের হাইকমিশন ও দূতাবাস আছে, তারাও বিষয়টি জানে। এ কারণেও এমপি আসার পর ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরনো পাসপোর্ট দেখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। 

 

যারা বা যেসব দেশ এসব অভিযোগ তুলছে, তারাও বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। সেক্ষেত্রে যদি কেউ পুরনো পাসপোর্ট থাকার বিষয়ে ভিসা ফরমে উল্লেখ করে, তাহলে পুরনো পাসপোর্ট উপস্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।’ তিনি বলেন, ‘আবার দেখা যায় কানাডাসহ অনেক দেশের ভিসাই দিল্লি বা সিঙ্গাপুর থেকে ইস্যু হয়। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের হাইকমিশন বা দূতাবাস থেকে শুরু থেকেই নতুন ও পুরনো সব পাসপোর্টসহ নানা ধরনের তথ্য জমা দিতে বলা হয়।

Comment As:

Comment (0)