ই-পাসপোর্ট চালু নিয়ে সংশয় ডিসেম্বরেও

A+ A- No icon

আসছে ডিসেম্বরের মধ্যে ইলেকট্রনিক বা ই-পাসপোর্ট চালুর কথা থাকলেও তাতে কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে। মেশিন রিডেবল বা এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে কনভার্ট করতে হলে সব তথ্য নির্ভুলভাবে নতুন ডেটাবেইসে স্থানান্তর করতে হবে। এসব টেকনিক্যাল কাজ শেষ করে ডিসেম্বরে ই- পাসপোর্ট চালু করা দূরহ বলে মনে করেন পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ।


পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে তারা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে কবে নাগাদ ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমে যেতে পারবেন তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না। তবুও ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সম্ভাব্য ডেটলাইন ধরেই এগুচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ইমিগ্রেশন বা পাসপোর্ট বিভাগ।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিসরে ভ্রমণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত করার পাশাপাশি জালিয়াতি ঠেকাতে ২০১৬ সালে মেশিন রিডেবল বা এমআরপি পাসপোর্টের পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশেও আধুনিক প্রযুক্তির ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট তুলে দিতে ওই বছরই ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক।


প্রাথমিকভাবে ই-পাসপোর্টের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পর্যায়ক্রমে পাঁচ ও দশ বছর। বয়স ভেদে পাসপোর্টের এ মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গেল ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ই-পাসপোর্টের ফি দুইভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা (ভ্যাট ছাড়া), জরুরী ফি ৫৫০০ টাকা, অতি জরুরী ফি ৭৫০০ টাকা। আর দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য সাধারন ফি ৭০০০ টাকা, জরুরী ফি ৯০০০ টাকা এবং অতি জরুরী ফি ধরা হয়েছে ১২০০০ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট হবে ৪৮ পৃষ্ঠার এবং ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট বইয়ে ৬৪ পৃষ্ঠা থাকবে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ই-পাসপোর্ট চালু হলে এর পাশাপাশি প্রচলিত এমআরপি পাসপোর্ট বহাল থাকবে। তবে নতুন করে আর কাউকে এমআরপি পাসপোর্ট দেওয়া হবে না। বর্তমানে এমআরপি পাসপোর্ট বহনকারীরা নবায়ন করতে গেলে তাদেরকে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থায় যুক্ত হতে হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল পাসপোর্ট ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর হবে।

Comment As:

Comment (0)