বাতিল ৪ হাজার ফ্লাইট, অর্ধেক কর্মীকে কাজে না আসার নির্দেশ

A+ A- No icon

বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তেই পৌঁছে গেছে প্রানঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানাভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে, স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেয়া, বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেয়ার মতো নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে এয়ারলাইন্সগুলো ব্যবসায় বড় ধরনের পতন হচ্ছে।


নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইন্স বলছে, করোনা ভাইরাস নিয়ে চলমান পরিস্থিতির কারণে তাদের ৪ হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে এবং কর্মীদের প্রায় অর্ধেককে সাময়িকভাবে কাজে না আসার জন্য বলা হচ্ছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইন্সের মতো সমস্যায় পড়তে হয়েছে বিশ্বের আরও অনেক এয়ারলাইন্সকে।


করোনার বিস্তার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপ থেকে ৩০ দিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আর এতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে নরওয়েজিয়ান এয়ার। আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে স্বল্প খরচে ইউরোপ-আমেরিকা যাতায়াতে এই নরওয়েজিয়ান এয়ারই ছিল অনেকের ভরসা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দূরের বিভিন্ন দেশে তাদের যত ফ্লাইট ছিল মে মাসের শেষ পর্যন্ত তার প্রায় ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইন্স বর্তমান পরিস্থিতির জন্য করোনাভাইরাসকেই দুষছে।


প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাজি জ্যাকব স্খার্ম বলেছেন, খরচ কমানোর যত উপায় আসে সব আমাদের দেখতে হবে। শুনতে খারাপ লাগলেও তারই অংশ হিসেবে আমাদের ৫০ শতাংশ কর্মীকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হবে, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ প্রতিষ্ঠানের কাজ করেন প্রায় ১১ হাজার কর্মী। তিনি আরও বলেন, সব দেশের সরকারকে আমরা বলে দিতে চাই বিভিন্ন দেশে বিমান খাতে যারা কাজ করছেন তাদের চাকরি নিয়ে যেন সমস্যা না হয় সেদিকে এখনই দৃষ্টি দিতে হবে। আর এই খাত যে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশেষ চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে সে ধারাও যেন অব্যাহত থাকে সেজন্যও দৃষ্টি জরুরি। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত। এখন আমাদের সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে যাত্রী ও সহকর্মীদের নিরাপত্তার দিকে।


প্যারিস, বার্সেলোনা, আমস্টারডাম, মাদ্রিদ, এথেন্স এবং অসলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচল বন্ধ হচ্ছে, অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকায় লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। স্বল্প দূরত্বের বেশ কিছু ফ্লাইটও বাতিল করত হয়েছে এই এয়ারলাইন্সকে। করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ খাতগুলোর জন্য নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ সহায়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু এখনও জানানো হয়নি।


ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে নরওয়েতে প্রথম করোনো আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। আর এখন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ জনে।

Comment As:

Comment (0)